রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

৪০ শতাংশ পদ শূন্য থাকায় স্বাস্থ্যসেবায় চাপ, নিয়োগের উদ্যোগ সরকারের

জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে সেবা; উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন ও রোগ প্রতিরোধে জোর দিচ্ছে সরকার

দেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৪০ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ সংকট নিরসনে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজশাহী নগরীর একটি হোটেলে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনাবিষয়ক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, চিকিৎসক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে সরকার কাজ করছে।

চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্যোগ

ড. এম এ মুহিত বলেন, বর্তমানে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত থাকছেন। তবে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করতে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট দূর করা জরুরি।

তিনি জানান, উপজেলা পর্যায়ে প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন এবং বিদ্যমান ল্যাবের যন্ত্রপাতি সচল করা গেলে রোগ নির্ণয় সহজ হবে। এতে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের দূরের হাসপাতালে যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে।

স্বাস্থ্য খাতে শূন্য পদ পূরণ এবং মাঠপর্যায়ে সেবার সক্ষমতা বাড়ানো গেলে চিকিৎসাসেবার ওপর চাপ কমবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

দুই কোটির বেশি শিশুকে হাম প্রতিরোধের টিকা

হাম প্রতিরোধে চলমান টিকাদান ও ক্যাচ-আপ কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

শিশুদের টিকাদানের আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা জোরদারেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশা ও লার্ভা নিধন এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দুই হাজার চিকিৎসককে এ বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তাঁর মতে, ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসা যথেষ্ট নয়; রোগের বিস্তার রোধে পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত নজরদারি এবং জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধে বেশি গুরুত্ব

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার তুলনায় রোগ প্রতিরোধ করা অধিক কার্যকর। তাই টিকাদান, পরিচ্ছন্নতা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো রোগ শনাক্তকরণের মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা গেলে রোগের ঝুঁকি কমানো এবং স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

কর্মশালায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হক এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।

কর্মশালায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদারের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন