রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

সব উপজেলার সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায় সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী

দল-মত ও অঞ্চল বিবেচনায় নয়, দেশের সব উপজেলার মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায় সরকার বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, কোনো একটি উপজেলাকে এমন সুবিধা দেওয়া উচিত নয়, যা পাশের অন্য উপজেলার মানুষ পাবেন না। উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের সব এলাকার মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিতে হবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আয়োজনে ‘সমবায় সমিতির মাধ্যমে নগর ও পল্লী অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে কর্মকৌশল নির্ধারণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের ৫০৩টি উপজেলার উন্নয়নে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে সব এলাকার মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব।

জনগণের সেবায় সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বের বিষয়ে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, তাঁরা শুধু চাকরিজীবী নন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের সেবায় নিয়োজিত। সরকারের নেওয়া কর্মসূচির সুফল যেন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেটিই জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃণমূলকেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও তাঁদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন-ভাতা সমন্বয়ের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। সীমিত সম্পদের কারণে সবকিছু একসঙ্গে বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও আগামী কয়েক বছরে পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবছর সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন সমন্বয়ের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে গুরুত্ব

নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত জ্বালানির উৎস সীমিত হয়ে আসায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। সৌরশক্তির যথাযথ ব্যবহার ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে সৌরবিদ্যুতের সুফল দেশের মানুষের কাছে পৌঁছায়।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় খাতের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কাঠামো, কার্যপরিধি ও সুযোগ-সুবিধা আরও কার্যকর করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানান। পল্লী উন্নয়ন বোর্ডকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের প্রস্তাবসহ কর্মকর্তাদের উত্থাপিত বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আশ্বাস দেন তিনি।

সমবায় সমিতিকে জনকল্যাণমুখী করার আহ্বান

সমবায় খাতের কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, শুধু নিবন্ধিত সমিতির সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, সেগুলোকে কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। দেশে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ নিবন্ধিত সমবায় সমিতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি এসব সমিতির প্রকৃত কার্যকারিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকার সমিতিগুলোর কার্যক্রম যাচাই করে সেগুলোকে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ যাতে সহজে সমবায় সমিতি গঠন করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন, সে জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, সমবায়ের মাধ্যমে মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

সৌরপ্যানেল স্থাপনে ৩৯০ কোটি টাকা ছাড়

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, অল্প কিছুদিনের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেবে বলে তিনি আশাবাদী। ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারের ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীন সমিতিগুলোর মাধ্যমেও সৌরপ্যানেল স্থাপন করা গেলে দেশের সাময়িক বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি। এ লক্ষ্যে গ্রামের মানুষকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহিত করতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানান, সৌরপ্যানেল স্থাপন ও সহায়ক সেবা ক্রয়ের জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে ইতোমধ্যে ৩৯০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৫ বছরে বেতন বৃদ্ধি না হওয়ায় তাঁরা আর্থিক ও পারিবারিক জীবনে নানা সংকটের মুখে পড়েছেন। বর্তমান সরকার তাঁদের দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে সবাইকে একসঙ্গে সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন