ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নাভি পিল্লাইয়ের দীর্ঘদিনের অবদানের প্রশংসা করেছেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দক্ষিণ আফ্রিকার আইনবিদ বিচারপতি নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাইকে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় পিল্লাইয়ের আজীবন অঙ্গীকারের প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, তাঁর কর্মজীবন বিশ্বজুড়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক অভিনন্দন বার্তায় অধ্যাপক ইউনূস এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে পিল্লাইয়ের দীর্ঘদিনের অবদান এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কারকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রামের স্বীকৃতি
অভিনন্দন বার্তায় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করায় আমি তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”
পিল্লাইয়ের দীর্ঘ ও গৌরবময় কর্মজীবনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিচারপতি পিল্লাই তাঁর জীবন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে উৎসর্গ করেছেন। বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক বিচারাঙ্গনে তাঁর ভূমিকা আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি গভীর অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
অধ্যাপক ইউনূসের মতে, পিল্লাইয়ের কাজ প্রমাণ করেছে যে আইনের শাসন ছাড়া স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং অধিকারবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
‘ন্যায়বিচার ও শান্তি একে অপরের পরিপূরক’
নাভি পিল্লাইয়ের অর্জনকে সাহস, সততা ও নৈতিক দৃঢ়তার স্বীকৃতি হিসেবে অভিহিত করেছেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, “মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার বিচারপতি পিল্লাইয়ের অসাধারণ সাহস ও অবিচল সততার স্বীকৃতি।”
তিনি আরও বলেন, “এটি একই সঙ্গে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে ন্যায়বিচার ও শান্তি একে অপরের পরিপূরক। আমি তাঁর প্রতি আমার আন্তরিক শুভকামনা জানাই।”
অধ্যাপক ইউনূসের এই বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং জবাবদিহির গুরুত্ব আবারও উঠে এসেছে। তাঁর মতে, টেকসই শান্তির জন্য শুধু সংঘাতের অবসান নয়, বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।
আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় নাভি পিল্লাইয়ের অবদান
দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের সময় থেকে ন্যায়বিচারের পক্ষে কাজ করে আসা নাভি পিল্লাই আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।
২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার সময় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় পিল্লাইয়ের অবদানের কথা তুলে ধরে। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকারও স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
৯ অক্টোবর নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি নাভি পিল্লাইকে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করে। আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
পিল্লাইয়ের এই অর্জন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অভিনন্দন বার্তা ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

