শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরও এক ধাপ অগ্রগতি

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দেওয়া এ অনুমোদনের ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কমিশনিং কার্যক্রম আরও এক ধাপ এগিয়েছে। তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আগে আরও দুটি নিয়ন্ত্রক অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

বায়রার চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান, প্রথম ইউনিটের জন্য বি-২ (B-2) পর্যায়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে রিঅ্যাক্টরে প্রথম নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া বা ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ পর্যায়ে যাওয়ার পথ খুলেছে। পরবর্তী ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া যাবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে কমিশনিং কার্যক্রমের সময় স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন নিরাপত্তা ভালভে (পিওআরভি/পিওএসভি) কারিগরি জটিলতা দেখা দেয়। এর ফলে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন পেতে বিলম্ব হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সমস্যাটি সমাধানে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের একটি কারিগরি দল কাজ করে। ভালভগুলোর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও সমন্বয়ের পর নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়।

বায়রার চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরই পরবর্তী ধাপে যাওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো স্থাপনায় প্রতিটি পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কমিশনিং প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি হলো পারমাণবিক চুল্লিতে প্রথমবারের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত নিউক্লিয়ার চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হওয়ার পর্যায়। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের পারমাণবিক বিক্রিয়া, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা পরামিতিগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

তবে এই অনুমোদনকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বা জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর অনুমতি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর পরও বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা, ধাপে ধাপে ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সম্পন্ন করতে হবে।

বায়রা চেয়ারম্যানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বি-২ পর্যায় সফলভাবে শেষ হওয়ার পর সি (C) ও ডি (D) পর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এসব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে চলতি বছরের শেষ দিকে, বিশেষ করে ডিসেম্বরে, জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তবে এ সময়সীমা নির্ভর করছে পরবর্তী কমিশনিং ধাপগুলোর সফল সমাপ্তি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার ওপর।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরু হয় গত ২৮ এপ্রিল। ১২ মে জ্বালানি লোডিং শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন পরীক্ষা ও কমিশনিং কার্যক্রম চলে। নিরাপত্তা ভালভের কারিগরি জটিলতার কারণে পরবর্তী কার্যক্রমে দুই মাসেরও বেশি সময় বিলম্ব হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির দুটি ইউনিটে রাশিয়ার ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের পরিকল্পিত উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট; দুটি ইউনিট মিলিয়ে মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটে ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি পর্যায়ে যাওয়ার অনুমোদন দেশের বিদ্যুৎ খাতে পারমাণবিক শক্তি যুক্ত করার প্রস্তুতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর আগে বাকি কারিগরি পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সফলভাবে সম্পন্ন করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন