ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক, অবৈধ অস্ত্র, জাল রেভিনিউ ও নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প এবং ভেজাল ওষুধ-প্রসাধনীসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধারের ঘটনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এসব ঘটনায় মোট ৫৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, জাল স্ট্যাম্প, নগদ অর্থ, যানবাহন, মোবাইল ফোন এবং ভেজাল ওষুধ ও প্রসাধনী তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে রমনা বিভাগে ৩৩ জন, লালবাগ বিভাগে ৬৭ জন, ওয়ারী বিভাগে ৭৫ জন, মতিঝিল বিভাগে ৫৩ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৭৩ জন, মিরপুর বিভাগে ১০২ জন, গুলশান বিভাগে ৫২ জন এবং উত্তরা বিভাগে ৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ছাড়া গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) নয়জন এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সব মিলিয়ে বিভিন্ন বিভাগে অভিযান চালিয়ে ৫২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩ কেজি ৫৯০ গ্রাম গাঁজা, ২১৮ পিস ইয়াবা এবং ২ দশমিক ৬ গ্রাম হেরোইন।
এ ছাড়া অভিযানে দুটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি বাস, নয়টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩২ টাকা জব্দ করা হয়।
ডিএমপির অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল স্ট্যাম্পও উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৬০০ পিস জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প এবং ৩ হাজার ৩৫৬ পিস নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প রয়েছে।
অভিযানের সময় ভেজাল ওষুধ ও প্রসাধনী এবং এগুলো তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৬২৭টি সিরাপ, ৬ হাজার ক্যাপসুল, ৩০টি ফেসওয়াশ, ৩১০টি শ্যাম্পু এবং পাঁচ কেজি সাদা পাউডার। এ ছাড়া হাইজিন ওয়াশের ১৫০টি খালি মোড়ক ও বোতল এবং লেবেলবিহীন ৩০০টি সিরাপের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।
পাশাপাশি ক্যাপসুল সেল ভরার একটি মেশিন, ক্যাপসুল ভরার ছয়টি যন্ত্রাংশ এবং লেবেল লাগানোর দুটি সাচ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

