অনুসরণ করুন:
শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

৪৯তম বিসিএসে বাদ পড়া প্রার্থীদের নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান

যাচাই-বাছাই ও পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ)-এর প্রথম পর্যায়ের প্রজ্ঞাপনে বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে আগামী সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল মানবিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। তাই কারও রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, বিসিএসসহ কোনো পরীক্ষা বা নিয়োগের ক্ষেত্রে সেই পরিচয়ের কারণে বৈষম্য করা হবে না।

তিনি বলেন, ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ)-এ শিক্ষা ক্যাডারের প্রবেশ পদে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে গতকাল প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। পিএসসির চূড়ান্ত ফলাফলে এ বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ৬৬৮ জন। সে হিসাবে প্রথম প্রজ্ঞাপনে ৫৭ জনের নাম না থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের মধ্যে তিনজন সার্টিফিকেট জমা দিতে পারেননি এবং আটজন মেডিকেল টেস্টে উপস্থিত হননি। ফলে যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় থাকা প্রার্থীর সংখ্যা ৪৬ জন।

মন্ত্রী বলেন, বিসিএস বা এ ধরনের সরকারি নিয়োগে পুলিশ ভেরিফিকেশন, মেডিকেল পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

সাম্প্রতিক কিছু সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা সৃষ্টির অপপ্রয়াস লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারও প্রতি বৈষম্য করা হবে না—এ বিষয়ে সবাইকে আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে একজনের নাম না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মাহুতির হুমকির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিসিএসের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন একবারেই হতে হবে এমন নয়; কয়েক ধাপে প্রজ্ঞাপন হতে পারে। ৪৯তম বিসিএসে চাকরিতে যোগদানের তারিখ আগামী ১২ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এখনও ১১ দিন সময় রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনা সৃষ্টিকারীদের মধ্যে কেউ কেউ নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হবে না—এমন ধারণা থেকে মন্তব্য করছেন। তবে তাদের পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলে পুলিশ ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে অল্পসংখ্যক প্রার্থী বাদ পড়তে পারেন। কারও বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের কনভিকশন থাকলে তা প্রত্যাহার বা আপিলে খালাস না পাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যথায় সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া পরবর্তীতে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

এ বিষয়ে বাদ পড়া প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন