রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন্দরে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি: লুণ্ঠিত স্বর্ণ-রূপাসহ গ্রেপ্তার ৫

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত স্বর্ণ ও রূপার অলংকার, নগদ টাকা এবং ডাকাতিতে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে বন্দর থানাধীন ঢাকেশ্বরী বাজারের সোনাচড়া এলাকায় একটি স্বর্ণের দোকানে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৭-৮ জনের একটি ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দোকানে প্রবেশ করে। পরে দোকানে থাকা এক নারী ও দোকানদারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, রূপার গহনা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ আনুমানিক ২৬ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

ডাকাতির পুরো ঘটনা দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, পিপিএম-সেবার নির্দেশনায় বন্দর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একাধিক দল তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত ও অভিযান শুরু করে।

এর ধারাবাহিকতায় ২৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ২টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বন্দর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারদের মধ্যে তিনজন ডাকাতির ঘটনায় সরাসরি অংশগ্রহণ এবং দুজন দোকানের বাইরে অবস্থান করেছিল বলে জানা গেছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বন্দরের সোনাচড়া এলাকার আনোয়ার হোসেন ওরফে আলী হোসেন (৩২), সোনাচড়া ১ নম্বর ঢাকেশ্বরী এলাকার মো. মিজান (২৬), উত্তর লক্ষণখোলা এলাকার মো. অনিক (২২), মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার শোলারচর এলাকার সুমন বেপারী (৩৮) এবং সোনাচড়া ২৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার রাজু আহমেদ (২৪)।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মিজানের বিরুদ্ধে তিনটি ডাকাতি মামলা, অনিকের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি মামলা এবং রাজু আহমেদের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

অভিযানকালে গ্রেপ্তারদের হেফাজত থেকে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত ও ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে রয়েছে ১৩ হাজার ৭০০ টাকা, ১২ ভরি রূপা—যার মধ্যে তিন জোড়া নূপুর, দুটি চুড়ি ও পাঁচটি আংটি রয়েছে। এছাড়া স্বর্ণ ও রূপার প্রলেপ দেওয়া দুটি রুলি (চুড়ি) এবং একটি স্বর্ণের নাকফুল উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ডাকাতিতে ব্যবহৃত দেশীয় তৈরি ১৮ ইঞ্চি লম্বা একটি ছুরি, ১২ ইঞ্চি লম্বা একটি ছুরি ও একটি চাইনিজ কুড়াল জব্দ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ডাকাতির সময় অভিযুক্তদের পরনে থাকা শার্ট, গেঞ্জি ও প্যান্টও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাতির ঘটনায় জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে বন্দর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা দলের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন