শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চামড়া-পাদুকা শিল্পে রপ্তানি বাড়াতে রোডম্যাপ, মতামত দেবেন অংশীজনরা

খসড়া প্রকাশ হবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে • ট্রেসেবিলিটি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ • দেশে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ক্ষুদ্র পাদুকা কারখানা

দেশের চামড়া ও পাদুকা শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে অভ্যন্তরীণ বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং রপ্তানি বাড়াতে একটি বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করছে সরকার। রোডম্যাপের খসড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে ট্যানারি মালিক, প্রস্তুতকারক, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তিবিদসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ‘দশম বাংলাদেশ লেদার অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান এ তথ্য জানান।

বাণিজ্য সচিব বলেন, চামড়া শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নে বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শিল্পটির জন্য একটি কর্মমুখী রোডম্যাপ তৈরির কাজ চলছে। এতে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং খাতটির প্রয়োজনীয়তা প্রতিফলিত করার চেষ্টা করা হবে।

দেশীয় বাজারেও বড় সম্ভাবনা

চামড়া শিল্পের অন্যতম সুবিধা হিসেবে দেশে কাঁচামালের সহজলভ্যতা এবং প্রযুক্তিবিদদের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার কথা তুলে ধরেন বাণিজ্য সচিব। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশের মানুষকে দেশীয় চামড়াজাত পণ্য ব্যবহারে আরও উৎসাহিত করার সুযোগ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা ও প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দিতে হবে।

এ লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের একটি কাঠামো এবং জাতীয় ট্রেসেবিলিটি কাঠামো তৈরির কাজ করছে। পাশাপাশি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য পৃথক ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

গবেষণা ও শিল্পের মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর তাগিদ

চামড়া খাতের গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন আতাউর রহমান খান।

তিনি বলেন, চামড়া প্রযুক্তির শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সঙ্গে ট্যানারি মালিক এবং উদ্যোক্তাদের সংযোগ আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। এ বিষয়টিও প্রস্তাবিত রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

বছরে ২৭ কোটি বর্গফুট চামড়া উৎপাদন

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর আনুমানিক ২৭ কোটি বর্গফুট চামড়া উৎপাদিত হয়। এর বড় অংশ রপ্তানি করা হয় এবং বাকিটা দেশের চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশ থেকে প্রক্রিয়াজাত চামড়ার পাশাপাশি জুতা, ভ্রমণব্যাগ, বেল্ট, মানিব্যাগসহ বিভিন্ন চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও চামড়ার তৈরি বিভিন্ন পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠাচ্ছে।

আয়োজকদের দাবি, দেশে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি ক্ষুদ্র পাদুকা কারখানা রয়েছে। পাদুকা উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে অষ্টম এবং ভোক্তাবাজারের আকারে নবম অবস্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশের চামড়ার গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, হংকং ও তাইওয়ান। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও পাদুকার চাহিদা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দেশীয় কোম্পানিগুলো ক্রয়াদেশ পাওয়ায় এ খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

এক্সপোতে ২৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ), লেদার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস সোসাইটি, বাংলাদেশ (লেটস’বি) এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ারস অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনের প্রদর্শনী চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দেশি-বিদেশি ২৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এবারের এক্সপোতে অংশ নিচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. সাখাওয়াত উল্লাহ।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ও লেদার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস সোসাইটি বাংলাদেশের প্রতিনিধিসহ দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী, প্রস্তুতকারক ও প্রযুক্তিবিদরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন