সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে প্রথম ভাষণ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

২৪ সেপ্টেম্বর ইউএনজিএতে ভাষণ; গুরুত্ব পাবে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু ও অর্থনৈতিক কূটনীতি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই তাঁর প্রথম অংশগ্রহণ। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীদের বহনকারী তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট সোমবার সকাল ৬টা ৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। প্রধানমন্ত্রী ২৬ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতির পর প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে পৌঁছানোর কথা। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানাবেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রালে অবস্থান করবেন।

২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ

এবারের সফরের মূল আকর্ষণ প্রধানমন্ত্রীর ২৪ সেপ্টেম্বরের সাধারণ পরিষদের ভাষণ। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসবে।

২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের স্বাগত প্রাতরাশে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা। এরপর তিনি সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী পর্বে অংশ নেবেন। সন্ধ্যায় রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া সংবর্ধনায়ও তাঁর যোগ দেওয়ার সূচি রয়েছে।

রোহিঙ্গা ও জলবায়ু ইস্যুতে জোর

২৩ সেপ্টেম্বর বৈশ্বিক বৈষম্য মোকাবিলা নিয়ে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি সভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। একই দিন জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সংগত উত্তরণ’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেবেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠানেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরবে বাংলাদেশ।

জলবায়ুবিষয়ক আলোচনায় বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানের পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়ার কথা রয়েছে।

২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বের হুমকি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। একই দিনে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং ধাত্রীসেবা নিয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সূচি রয়েছে তাঁর।

বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সূচি

সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।

জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত এবং জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের সূচি রয়েছে।

অর্থনৈতিক কূটনীতিও গুরুত্ব পাচ্ছে

সফরে অর্থনৈতিক কূটনীতিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী মেটা, ওয়াল স্ট্রিট ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, উৎপাদন ও অবকাঠামো খাত, প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং তরুণদের মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ গুরুত্ব পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টায় এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটি প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অংশগ্রহণ। এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন