সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এসডিজি বাস্তবায়নে গতি বাড়ানোর আহ্বান, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষার দাবি

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে গতি বাড়ানো, পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে দেশের সব মানুষের জন্য কার্যকর ও সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক জনসম্মিলনের বক্তারা।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের কারিতাস কার্যালয়ে ‘Regional People’s Assembly 2026’ শীর্ষক এ জনসম্মিলন অনুষ্ঠিত হয়। ‘Global Call to Action Against Poverty’ ও ‘People Rising to End Inequalities’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং ‘Global Action Week on SDGs’ উপলক্ষে এসডিজি অ্যাকশন অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ, এনআরডিএস (NRDS) ও আইএসডিই বাংলাদেশ যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিইর নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসম্মিলন সঞ্চালনা করেন ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সংগঠক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী।

অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন এসডিজি অ্যাকশন অ্যালায়েন্সের সমন্বয়ক ও এনআরডিএসের নির্বাহী পরিচালক আবদুল আওয়াল। আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন প্রবীণ শিক্ষাবিদ ড. প্রফেসর ইদ্রিস আলী, বিশিষ্ট নারী নেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু, কলামিস্ট মুসা খান এবং বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক সরোয়ার কামাল।

আলোচনায় ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ম সম্পাদক মো. সেলিম জাহাঙ্গীর, সমাজকর্মী মিটুল দাস গুপ্ত, প্রশিকার উপপরিচালক সাহাদত হোসেন, ক্যাব চান্দগাঁও থানা সভাপতি মো. জানে আলম, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল ফারুকীসহ বিভিন্ন সামাজিক, উন্নয়ন ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

জনসম্মিলনে বক্তারা বলেন, ২০১৫ সালে জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অঙ্গীকার করেছিল। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, বৈষম্য হ্রাস এবং টেকসই নগর ও পরিবেশ নিশ্চিত করা।

তবে বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সংকটের কারণে এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন তাঁরা। আয়োজকদের দাবি, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১৯ শতাংশ সঠিক পথে রয়েছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের ২০২৬ সালের এসডিজি অগ্রগতি প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, পর্যাপ্ত প্রবণতাগত তথ্য পাওয়া ১৩৯টি লক্ষ্যের মধ্যে ৩৬ শতাংশ লক্ষ্য সঠিক পথে অথবা মাঝারি অগ্রগতির পর্যায়ে রয়েছে। সামগ্রিক অগ্রগতি ধীর ও অসম বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।

বক্তারা বলেন, অর্থায়নের ঘাটতি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঋণের চাপ, সংঘাত ও বৈষম্য এসডিজি বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আগামী চার বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বিদ্যমান অঙ্গীকারগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

তাঁরা আরও বলেন, কোন লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে, কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং ঘাটতি পূরণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—তা নিয়মিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এসডিজি বাস্তবায়ন শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; স্থানীয় সরকার, নাগরিক সমাজ, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সংস্থা, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও তরুণদের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

জনসম্মিলনে স্থানীয় পর্যায়ে এসডিজির অগ্রগতি পর্যালোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, জাতীয় পর্যায়ের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এসডিজির সূচকভিত্তিক অগ্রগতি প্রকাশ করা জরুরি। এর মাধ্যমে উন্নয়নের সুফল কোথায় পৌঁছাচ্ছে এবং কোন জনগোষ্ঠী পিছিয়ে রয়েছে, তা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, দরিদ্র জনগোষ্ঠী, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা মানুষসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা। ‘কাউকে পিছনে না রাখা’—এসডিজির এই মূলনীতিকে উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তাঁরা।

বক্তারা বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে অর্থায়নের ঘাটতি পূরণ, স্থানীয় পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার করা গেলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের গতি বাড়ানো সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, ‘গ্লোবাল গোলস উইক ২০২৬’ ১৯ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পালিত হচ্ছে। এসডিজি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ, জনসচেতনতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে নাগরিক সমাজ, ব্যবসা, শিক্ষাঙ্গন ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশীজনের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন