অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এআই দিয়ে স্বাস্থ্যবার্তা ছড়াবে তরুণরা, গাইবান্ধায় ব্যতিক্রমী কর্মশালা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানো এবং তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতায় সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে গাইবান্ধায় দিনব্যাপী নেটওয়ার্কিং ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আরএইচস্টেপ-অপরাজেয় তারুণ্যের উদ্যোগে সোমবার শহরের আলোর ধারা পাঠশালা সংলগ্ন ‘অপরাজেয় তারুণ্য’ সেমিনার কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া তরুণ ও কিশোর-কিশোরীদের এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষ করে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (এসআরএইচআর) বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তাগুলোকে এআইয়ের সহায়তায় আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য কমিক্স বুকে রূপ দেওয়ার পদ্ধতি শেখানো হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউওয়াইপি প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার মোছা. আসফিয়া খাতুন। ঢাকা থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন অপরাজেয় তারুণ্য ঢাকার প্রজেক্ট অফিসার সায়মা আক্তার এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনার ও ভিডিও এডিটর মো. সাজেদুল।

প্রশিক্ষণে বক্তারা দেখান, কীভাবে আধুনিক এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং এসআরএইচআর-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়গুলোকে সহজ, বোধগম্য ও আকর্ষণীয় ভিজ্যুয়াল কনটেন্টে রূপান্তর করা যায়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এআই-নির্ভর কনটেন্ট ব্যবহার করে জনসচেতনতা বাড়ানোর কৌশল নিয়েও আলোচনা করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে আসফিয়া খাতুন বলেন, “যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে শুধু প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভর করলে চলবে না। বর্তমান ডিজিটাল যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ও সৃজনশীল ব্যবহার করে মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রযুক্তিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগিয়ে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।”

তিনি তরুণদের দায়িত্বশীল ও সৃজনশীলভাবে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

কর্মশালায় স্থানীয় বিভিন্ন যুব ও কিশোর-কিশোরী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা জানান, এআই প্রযুক্তির সঙ্গে স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রমের সমন্বয় তাদের নতুনভাবে ভাবতে এবং ডিজিটাল মাধ্যমে মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবার্তা পৌঁছে দিতে উৎসাহিত করবে।

আয়োজকদের মতে, তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়গুলো যুক্ত করা গেলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আরও কার্যকর ও আকর্ষণীয় জনসচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব হবে। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে তরুণদের নেতৃত্বে স্বাস্থ্যবার্তা প্রচারের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন