অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালের রাসুয়া, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ

ভুটেকোশির বন্যায় ঝুঁকিতে নদীতীরের জনপদ • নিরাপদ স্থানে নতুন বসতি গড়বে সরকার • পুনর্গঠনে অর্থের ঘাটতি হবে না: প্রধানমন্ত্রী

ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের রাসুয়া জেলার ভুটেকোশি নদীতীরবর্তী এলাকার পুনর্গঠন ও মানুষের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় অর্থ ও সম্পদের ঘাটতি হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ওয়ালেন্দ্র শাহ। নদীতীরের ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ জনপদে পুনরায় বসতি না গড়ে কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে মানুষকে স্থানান্তরের প্রস্তুতিও শুরু করেছে সরকার।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়ে বন্যাকবলিত এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা জানান। দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি, সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শাহ জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে বিভিন্ন দাতা ও সহায়তাকারী সংস্থার দেওয়া সম্পদ ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সম্পদের সংকট যাতে না হয়, সরকার সে বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে।

বন্যার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠেছে যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক করা। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সড়ক নেটওয়ার্ক দ্রুত পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সড়ক যোগাযোগ চালু হলে দুর্গত মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রক্রিয়াও দ্রুত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে ভুটেকোশি নদীর তীরবর্তী বসতিগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সরকারকে জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নদীতীরবর্তী কিছু এলাকায় পুনরায় বসতি স্থাপন নিরাপদ হবে না। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের বর্তমান এলাকার কাছাকাছি কিন্তু তুলনামূলক নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বসতি গড়ে তোলার সময় শুধু ঘরবাড়ি নির্মাণ করলেই হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে পুনর্বাসন করতে হবে। একই সঙ্গে আবাদযোগ্য জমি সংরক্ষণের বিষয়েও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

পুনর্বাসনের জন্য উপযুক্ত ও নিরাপদ জমি চিহ্নিত করে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

দুর্যোগ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয়, প্রাদেশিক ও স্থানীয় সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের দুর্যোগে সরকারের বিভিন্ন স্তর একসঙ্গে কাজ করেছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সহায়ক হয়েছে।

তিনি বলেন, বন্যাকবলিত এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের প্রকৃত পরিস্থিতি ও মানুষের প্রয়োজন সম্পর্কে সরকার আরও স্পষ্ট ধারণা পেয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মনোবল ধরে রাখতেও ভূমিকা রাখবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন