রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মারিবে হুতিদের বড় হামলা প্রতিহতের দাবি ইয়েমেনি বাহিনীর

কয়েক সপ্তাহ ধরে মারিব, আল-জাওফ, তায়েজ, আল-দালে ও আল-বায়দাসহ একাধিক ফ্রন্টে চলছে সংঘর্ষ

ইয়েমেনের তেলসমৃদ্ধ মারিব প্রদেশে হুতি যোদ্ধাদের বড় ধরনের একটি হামলা সরকারপন্থী বাহিনী প্রতিহত করেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়েছে। শনিবার মারিবের পশ্চিমাঞ্চলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সরকারপন্থী ‘ওয়েস্ট কোস্ট’ সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মারিবের পশ্চিমে আল-মাশজাহ ও আল-জৌর এলাকায় হুতিরা বড় পরিসরে হামলা চালায়। তবে সরকারি বাহিনী তাদের অগ্রযাত্রা ঠেকিয়ে দেয়।

হামলা ও সংঘর্ষে হতাহতের সংখ্যা কিংবা উভয় পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী বা হুতিদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি। ফলে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

একাধিক প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ছে লড়াই

মারিবে নতুন করে হামলার খবর এমন সময় এলো, যখন ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চলের একাধিক ফ্রন্টে সরকারপন্থী বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে সংঘর্ষ চলছে।

মারিব ছাড়াও আল-জাওফ, তায়েজ, আল-দালে ও আল-বায়দা প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে লড়াইয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। নতুন এ সংঘর্ষগুলো দীর্ঘদিন ধরে চলা ইয়েমেনের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আবারও উত্তেজনা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, শুক্রবার মারিবের সীমান্তবর্তী কয়েকটি ফ্রন্টে সংঘর্ষে বহু হুতি যোদ্ধা নিহত অথবা আটক হয়েছেন। তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা এবং হতাহতের সংখ্যা নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এক দশকের বেশি সময় ধরে সংঘাত

ইয়েমেনের বর্তমান সংঘাতের সূত্রপাত ২০১৪ সালে, যখন হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে এবং পরবর্তী সময়ে দেশের আরও কয়েকটি অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারকে সমর্থন দিয়ে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সংঘাতে হস্তক্ষেপ করে। এরপর যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়ে দেশটিকে গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটে ঠেলে দেয়।

সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ফ্রন্টে নতুন করে সংঘর্ষের খবর ইয়েমেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগত ও জ্বালানি সম্পদসমৃদ্ধ মারিবকে ঘিরে নতুন করে বড় ধরনের লড়াই শুরু হলে দেশটির দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন