রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন, সামনে এলো স্বাস্থ্য ও জামিন প্রসঙ্গ

‘স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে’—আইনজীবীর বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের • দীর্ঘ কারাবাস ও জামিন পরিস্থিতিও প্রতিবেদনে • একাধিক মামলায় জামিন পেলেও মুক্তি মেলেনি

প্রান্তকাল ডেস্ক

বাংলাদেশের কারাবন্দি সনাতনী নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর স্বাস্থ্য ও জামিন পরিস্থিতি নিয়ে এবার বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম The Indian Express। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে স্বাস্থ্যের অবনতির দাবি সামনে আনার পাশাপাশি দীর্ঘ কারাবাস ও তাঁর বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর সর্বশেষ অবস্থাও তুলে ধরা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনের শিরোনামেই চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ‘স্বাস্থ্যের অবনতি’র বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্যের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

আইনজীবীর দাবি, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। তবে তাঁর ঠিক কী ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে কিংবা এ বিষয়ে কোনো চিকিৎসা প্রতিবেদন রয়েছে কি না, তার বিস্তারিত প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের নজরে চিন্ময়

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তার ও জামিনের বিষয়টি এর আগেও ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে স্থান পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও তাঁর জামিনসংক্রান্ত খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

তবে The Indian Express-এর ১২ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে আইনি পরিস্থিতির পাশাপাশি তাঁর স্বাস্থ্যকে বিশেষভাবে সামনে আনা হয়েছে। প্রতিবেদনে তাঁর দীর্ঘ কারাবাস, বিভিন্ন মামলায় জামিনের আবেদন এবং মুক্তি না পাওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বর্তমানে ছয়টি ফৌজদারি মামলার আসামি বলে তাঁর আইনজীবীর বরাতে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমেও জানানো হয়েছে।

পাঁচ মামলায় জামিন, তবু কারাগারে

গত ৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা আরও দুটি মামলায় জামিন দেন। তাঁর আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন আদালত থেকে তিনি মোট পাঁচটি মামলায় জামিন পেয়েছেন।

এরপরও তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাননি।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের আদেশ আপিল বিভাগে স্থগিত রয়েছে। অন্যদিকে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার বিচার চলমান রয়েছে।

ফলে কয়েকটি মামলায় জামিন পাওয়ার পরও আইনি বাধার কারণে তাঁর কারামুক্তি হয়নি।

২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কারাগারে

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়। জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগ ঘিরে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

পরদিন চট্টগ্রামের আদালতে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর আদালত এলাকায় সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। পরে ওই হত্যাকাণ্ডসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনায় একাধিক মামলা হয়।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস এসব মামলার কয়েকটিতে আসামি।

মায়ের শেষকৃত্যে পাঁচ ঘণ্টার প্যারোল

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা সন্ধ্যা রানী ধর গত ১০ সেপ্টেম্বর মারা যান। পরিবারের আবেদনের পর তাঁকে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য পাঁচ ঘণ্টার প্যারোল দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিবারের আবেদনের পর আইন অনুযায়ী ওই প্যারোল মঞ্জুর করা হয়েছিল। শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পর তাঁকে আবার কারাগারে নেওয়া হয়।

মায়ের মৃত্যুর মাত্র দুই দিন পরই The Indian Express চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের স্বাস্থ্য ও আইনি পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করল।

স্বাস্থ্য নিয়ে আইনজীবীর দাবি

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবীর বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও তাঁর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে কারা কর্তৃপক্ষের কোনো স্বাধীন মেডিকেল মূল্যায়নের তথ্য সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।

ফলে তাঁর ‘স্বাস্থ্যের অবনতি’র বিষয়টি আইনজীবীর বক্তব্য হিসেবেই সামনে এসেছে।

তবে বাংলাদেশের একজন কারাবন্দি সনাতনী নেতার স্বাস্থ্য, দীর্ঘ কারাবাস এবং জামিন পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের একটি প্রধান জাতীয় দৈনিকে আলাদা প্রতিবেদন প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিষয়টি আবারও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় এসেছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন