রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির বিরুদ্ধে ব্রিকস, স্বাগত জানাল ফিলিস্তিন

ইসরায়েলি দখলদারিত্ব অবসানের আহ্বান • জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদে সমর্থন • গাজায় বাধাহীন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার তাগিদ

গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে ব্রিকস নেতাদের দেওয়া যৌথ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিন। একই সঙ্গে ঘোষণায় নেওয়া অবস্থানকে কূটনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১১ সদস্যের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন শেষে প্রকাশিত ঘোষণায় ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধান, ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান, দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

শনিবার এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ব্রিকসের ঘোষণায় ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার ও তাদের ভূখণ্ডে থাকার অধিকারের পক্ষে যে অবস্থান নেওয়া হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বাস্তুচ্যুতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

ব্রিকস নেতারা গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া যেকোনো নীতির বিরোধিতা করেছেন।

তাদের যৌথ ঘোষণায় এমন কোনো ব্যবস্থার বিষয়েও উদ্বেগ জানানো হয়েছে, যা ফিলিস্তিনি জনগণের অবিচ্ছেদ্য অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে কিংবা ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে বৈধতা দেওয়া বা দীর্ঘায়িত করার পথ তৈরি করতে পারে।

পূর্ব জেরুজালেমসহ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যানের বিষয়টিকে বিশেষভাবে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে সমর্থন

ব্রিকস ঘোষণা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, এসব অবস্থানের বাস্তবায়ন অর্থবহ করতে হলে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে হবে এবং ফিলিস্তিনি জনগণকে তাদের অবিচ্ছেদ্য অধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে হবে।

এর মধ্যে নিজ ভূখণ্ডে স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমকে সেই রাষ্ট্রের রাজধানী করার বিষয়টিও রয়েছে।

একই সঙ্গে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনকে পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার পক্ষে ব্রিকসের সমর্থনকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গাজায় বাধাহীন ত্রাণ পৌঁছানোর দাবি

গাজা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে ব্রিকস। জোটটির নেতারা গাজায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং অবরুদ্ধ অঞ্চলে পূর্ণ ও বাধাহীনভাবে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ (UNRWA) এবং সংস্থাটির কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতি ব্রিকসের সমর্থনকেও স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিন।

পাশাপাশি অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষা, সেখানে মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

‘ঘোষণা বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে’

ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ব্রিকসের রাজনৈতিক অবস্থান আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও শুধু ঘোষণাই যথেষ্ট নয়। এসব প্রতিশ্রুতিকে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে।

ব্রিকস বর্তমানে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—এই ১১ দেশ নিয়ে গঠিত।

সম্প্রসারণের পর জোটটি বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিন প্রশ্নে ব্রিকসের সম্মিলিত অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন