রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২–৩ হাজার টাকা মূল্যে স্মার্টফোন দিবে সরকার, লক্ষ্য ৫ কোটি মানুষ

অক্টোবরে স্থানীয় উৎপাদন • তিন মাস ফ্রি ডাটা-ভয়েসের পরিকল্পনা • দরিদ্রদের জন্য ১,২০০ কোটি টাকার এসওএফ কাজে লাগানোর চিন্তা

কৃষক, কৃষিশ্রমিক, রিকশাচালকসহ সাধারণ মানুষের হাতে ২ থেকে ৩ হাজার টাকার কার্যকর মূল্যে স্মার্টফোন পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি দেশে সাশ্রয়ী স্মার্টফোনের পূর্ণাঙ্গ স্থানীয় উৎপাদন শুরু হতে পারে। আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষকে স্মার্টফোন ও ডাটা সংযোগের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সরকারের এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় সাত কোটি মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না। প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী এখনো ফিচার ফোননির্ভর। ডিজিটাল সেবা ও ইন্টারনেট সুবিধার বাইরে থাকা এই বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশকে স্মার্টফোনে যুক্ত করতেই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উৎপাদন ব্যয় ৫৫ ডলার, কার্যকর মূল্য নামবে যেভাবে

প্রস্তাবিত স্মার্টফোনটির উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৫৫ ডলার হতে পারে। এর মধ্যে এলসিডি স্ক্রিনে ১৭ ডলার, মাদারবোর্ড-প্রসেসরসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশে ২৩ ডলার এবং ব্যাটারি ও কেসিংয়ে আরও ১৫ থেকে ১৬ ডলার ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে।

উৎপাদনকারীরা প্রতিটি ফোনে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা ভর্তুকি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এতে ডিভাইসের বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে গ্রাহকের জন্য ফোনটির কার্যকর মূল্য ২ থেকে ৩ হাজার টাকায় নামিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য। এজন্য তিনটি মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে ফোনের প্যাকেজে তিন মাসের বিনামূল্যের ডাটা ও ভয়েস সুবিধা যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। উৎপাদনকারীর ভর্তুকি ও অপারেটরের সেবা সুবিধার আর্থিক মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে গ্রাহকের কার্যকর ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

দরিদ্র দুই কোটি মানুষের জন্য এসওএফ

দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা আরও প্রায় দুই কোটি মানুষের জন্য বিশেষ সহায়তার পরিকল্পনাও রয়েছে। তাদের স্মার্টফোন সুবিধার আওতায় আনতে সরকারের সার্ভিস অবলিগেশন ফান্ড (এসওএফ) ব্যবহারের চিন্তা করা হচ্ছে।

রেহান আসিফের তথ্য অনুযায়ী, এ তহবিলে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা রয়েছে। তবে কোন জনগোষ্ঠী এ সুবিধা পাবে এবং কীভাবে উপকারভোগী নির্বাচন ও সহায়তা দেওয়া হবে, সে পদ্ধতি এখনো নির্ধারণের পর্যায়ে রয়েছে।

কিস্তিতে স্মার্টফোন কেনার সুযোগ

স্মার্টফোন কেনায় অর্থায়নের বাধা কমাতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা জানান, মোবাইল ফোন কেনার ক্ষেত্রে ইএমআই সুবিধা দেওয়ার আগের বিধিনিষেধ বাংলাদেশ ব্যাংক তুলে নিয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো এখন গ্রাহকদের কিস্তিতে স্মার্টফোন কেনার সুযোগ দিতে পারবে।

স্থানীয় উৎপাদনকারীরা কাঁচামাল আমদানি ও করসংক্রান্ত সুবিধার পাশাপাশি ঋণ সুবিধার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিলেন। এসব বিবেচনায় বাজেটে প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

লক্ষ্য ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি

রেহান আসিফ বলেন, পাঁচ কোটি মানুষকে স্মার্টফোন ও ডাটা সংযোগে যুক্ত করার মতো বড় কর্মসূচি সরকারের একার পক্ষে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এজন্য মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী, টেলিকম অপারেটর ও ব্যাংকিং খাতকে একই পরিকল্পনায় যুক্ত করা হচ্ছে।

ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন ও ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও দামের স্মার্টফোন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। সব প্রস্তুতি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে স্থানীয়ভাবে তৈরি প্রথম দিকের ফোন দ্রুত বাজারে আসবে এবং অক্টোবরের মাঝামাঝি পূর্ণাঙ্গ স্থানীয় উৎপাদন শুরু হবে বলে আশা করছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন