রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে কর ও শ্রমসংক্রান্ত আরও ৫০ মামলা বিচারাধীন

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে বিচারাধীন রয়েছে আরও প্রায় ৫০টি মামলা। এর মধ্যে কর-সংক্রান্ত ৩১টি মামলা হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে এবং শ্রম-সংক্রান্ত ১৯টি মামলা শ্রম আদালত ও শ্রম আপিলেট ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।

সম্প্রতি ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের কর-সংক্রান্ত একটি মামলায় হাইকোর্ট ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের রায় দেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে বিচারাধীন অন্য মামলাগুলোও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর ওই রায় দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা হয়েছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে কর সংক্রান্ত বিচারাধীন ৩১টি মামলায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর দাবির পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা। এসব মামলার কোনোটি হাইকোর্টে, আবার কোনোটি আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

এ ছাড়া শ্রম আইন সংক্রান্ত আরও ১৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে শ্রম আদালত ও শ্রম আপিলেট ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলাও রয়েছে। ফলে কর ও শ্রম—দুই ধরনের মামলায়ই ড. ইউনূসকে এখনো আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

সম্প্রতি গ্রামীণ কল্যাণের কর-সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্টের রায়ের পর বিচারাধীন এসব মামলা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনাঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর কয়েকটি বর্তমান সরকারের সময়ে নিষ্পত্তির পর্যায়ে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তবে ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুনের অভিযোগ, এসব ঘটনায় ড. ইউনূস ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ শিকার হচ্ছেন। তার দাবি, বর্তমান সরকারও আওয়ামী লীগ সরকারের মতো একই পথে হাঁটছে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য, আদালতের বিচারাধীন বিষয়ে আইন ও আদালতের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই কার্যকর হবে বলে রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান।

এদিকে গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর-সংক্রান্ত মামলার হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়।

আইনজীবীরা বলছেন, বিচারাধীন মামলাগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের ওপরই নির্ভর করবে। ফলে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর পরবর্তী কার্যক্রম এবং আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন