রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘আসুন, এবার রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করি’: তরুণদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

তিন মাসের ডেঙ্গুবিরোধী অভিযান শুরু • সপ্তাহে এক ঘণ্টা পরিচ্ছন্নতায় দেওয়ার আহ্বান • লক্ষ্য ডেঙ্গু সমস্যা অন্তত ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ

ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: দেশ পুনর্গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তরুণ সমাজ চাইলে একটি দেশকে বদলে দিতে পারে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের তরুণরা সেই সক্ষমতা বিশ্বকে দেখিয়েছে। এবার তাদের রাষ্ট্র ও দেশ পুনর্গঠনের কাজে সম্পৃক্ত হতে হবে।

শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী দেশজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসুন এবার রাষ্ট্রকে, দেশকে আমরা পুনর্গঠন করি। আগামী তিন মাসে আমাদের ডেঙ্গুর সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি। হয়তো শতভাগ পারব না, কিন্তু অন্তত ৮০ শতাংশ আমরা পারব।”

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং সরকারি-বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগকে সমন্বিত করতে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের সব জেলা ও উপজেলায় একযোগে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

‘সপ্তাহে এক ঘণ্টা দিন পরিচ্ছন্নতায়’

স্কাউটস, বিএনসিসি, গার্লস গাইড, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ অভিযানে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাসাবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নিজ নিজ এলাকা পরিষ্কার রাখতে প্রত্যেকে সপ্তাহে মাত্র এক ঘণ্টা সময় দিলেও বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

তারেক রহমান বলেন, পরিত্যক্ত প্লাস্টিক, ভাঙারি, পাত্র ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা বংশবিস্তার করে। সম্মিলিতভাবে এসব প্রজননস্থল ধ্বংস করতে পারলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সম্ভব।

যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলার প্রবণতা বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নিজে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। যারা অপরিচ্ছন্নতা সৃষ্টি করেন, তাদের এ ধরনের কাজ থেকে নিরুৎসাহিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নিজেকে সুস্থ রাখি, নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখি, নিজের সমাজকে সুস্থ রাখি, নিজের দেশকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করি।”

পরিচ্ছন্নতাকে সামাজিক অভ্যাসে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “কথা একটাই—কাজ, কাজ আর কাজ। পরিচ্ছন্নতা, পরিচ্ছন্নতা আর পরিচ্ছন্নতাই হতে হবে আমাদের আগামী দিনের মূল লক্ষ্য।”

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও অনলাইনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন