রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্ত্রীকে মৃত ঘোষণা, হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা স্বামীর ; পলাশবাড়ীতে রহস্যজনক মৃত্যুতে চাঞ্চল্য


গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মুমূর্ষু অবস্থায় এক গৃহবধূকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে অভিযুক্ত স্বামী হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করেন।


শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘটনাটি ঘটে।


নিহত শাহিনা বেগম (২২) সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের মৃত শাহাজাদা মিয়ার মেয়ে এবং পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

অভিযুক্ত স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়াম হোসেনপুর ইউনিয়নের মাজহারুল ইসলাম মিতুর ছেলে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিয়াম নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় স্ত্রী শাহিনাকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসিজি পরীক্ষার পর শাহিনাকে মৃত ঘোষণা করলে সিয়াম দ্রুত গাড়ি নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগের চেষ্টা করেন।

এ সময় দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করলেও তিনি সেখান থেকে চলে যান।
পরে নিহতের মরদেহের বিষয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

এদিকে নিজ এলাকায় ফিরে গেলে স্থানীয়রা সিয়ামকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক হৃদয় মণ্ডল জানান, চিকিৎসক শাহিনাকে মৃত ঘোষণা করার পর থেকেই সিয়ামের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন ।


নিহতের মা রহিমা বেগম অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। তার দাবি, সিয়াম মাদকাসক্ত ছিলেন এবং বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই শাহিনাকে নির্যাতন ও মারধর করতেন। ঘটনার দিনও শাহিনাকে মারধর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।


নিহতের চাচা মাজিদুর রহমান জানান, প্রেম করে বিয়ে করা শাহিনা ও সিয়ামের সংসারে আয়াশ (৪) ও আয়াত (১) নামে দুই সন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের ঘটনায় একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। তিনি ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন।


পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শামা তাবাসসুম জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শাহিনার মৃত্যু হয়েছিল। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।


ওসি সরোয়ারে আলম খান বলেন, অভিযুক্ত স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়ামকে আটক করা হয়েছে। মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে পুরোনো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া গলাতেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে গলায় ফাঁসজনিত ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন