বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দাবি, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হয়
৭ নভেম্বরের চেতনা দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ নিশ্চিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মানুষের রাজনৈতিক অধিকার সংকুচিত করা হয়েছিল। একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নগরীর আলমাস সিনেমার সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সাধারণ মানুষ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে রাজপথে যে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছিল, তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ওই সময় স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন।
তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের মূল চেতনা হচ্ছে বহুদলীয় গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা।
গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ৭ নভেম্বরের চেতনা
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, পরবর্তী সময়ে দেশে যখনই গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তখনই ছাত্র-জনতা ৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচার ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে।
১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পেছনেও এই চেতনা কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
রিজভী বলেন, মানুষ এমন একটি বাংলাদেশ চায়, যেখানে সবাই স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবে, নিজের মতপ্রকাশ করতে পারবে এবং পছন্দের রাজনৈতিক দল করতে পারবে।
রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে কাউকে গুম, খুন কিংবা রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি জনগণ আর দেখতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের উদ্যোগ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন।
দরিদ্র, হতদরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষমতায় আসার পরপরই এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সরকার যখন উৎপাদন ও উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তখন পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে।
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে সরকার আশ্বাস দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃত শ্রমিকদের অনেকেই আন্দোলন থেকে সরে এসেছেন। কিন্তু একটি মহল আন্দোলনকে উসকে দিয়ে শিল্পকারখানায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার অভিযোগ
রিজভী অভিযোগ করেন, বিদেশে অবস্থানরত শেখ হাসিনার অনুসারীরা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্নভাবে উসকানি দিচ্ছেন।
সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনের রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের মধ্যে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী রয়েছেন।
সমাবেশে উপস্থিত নেতারা
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য শামসুল আলম।

