অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

দুই মাসের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ হবে: প্রধানমন্ত্রী

মজুরি বোর্ড কাজ শুরু করেছে, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের আশা তারেক রহমানের; কারখানা ভাঙচুরকারীদের ২০২৪ সালের মতো জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি।

পোশাকশ্রমিকদের জন্য আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের দাবি পর্যালোচনায় সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং বোর্ড ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বাগেরহাটের কাটাখালি মোড়ে এক পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে, যাতে শ্রমিকরা আগের চেয়ে ভালো থাকতে পারেন।

মজুরি নির্ধারণে কাজ শুরু করেছে বোর্ড

তারেক রহমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ঢাকার কিছু এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে কিছু দাবি-দাওয়া রয়েছে। এসব দাবি বিবেচনা ও পর্যালোচনার জন্য সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২৩ সালের নভেম্বরে, যা কার্যকর হয় ওই বছরের ডিসেম্বরে। সেই হিসাবে বর্তমান নিম্নতম মজুরি কাঠামোর মেয়াদ চলতি মাসে শেষ হওয়ার কথা।

সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে গত ১ নভেম্বর ন্যূনতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের পাশাপাশি পোশাকশিল্পের জন্য পৃথক মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। বুধবার প্রথম সভা শেষে বোর্ড জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো আগামী ডিসেম্বরে কার্যকর হবে এবং শ্রমিকরা জানুয়ারিতে বর্ধিত বেতন হাতে পাবেন।

কারখানা ভাঙচুরকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা

দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের দাবির আড়ালে একটি মহল সীমান্তের ওপার থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, কোনো শ্রমিক শিল্পের ক্ষতি করতে পারেন না। কিন্তু বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখা গেছে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীরা বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে ভাঙচুর করছে। তারা কারখানা, যানবাহন ও যন্ত্রপাতির ক্ষতি করছে।

তারেক রহমান বলেন, দেশের মিল-কারখানা ধ্বংসকারীদের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ২০২৪ সালের মতো সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।

কারখানা ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিকরা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা সেই উদ্যোগ ব্যাহত করতে চাইছে। এ পরিস্থিতিতে জনগণ, শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে উচিত জবাব দিয়েছিল, সামনেও একইভাবে জবাব দেওয়া হবে।

তারেক রহমান আরও বলেন, মিল-কারখানাগুলো দেশের সম্পদ, দেশের মানুষের সম্পদ এবং শ্রমিকদেরও সম্পদ। এসব কারখানা ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিকরা। তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যৎও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সীমান্তের ওপার থেকে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৫-১৬ বছরে যারা দেশের মানুষের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেনি, ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশের অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার করেছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, এখন তারা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। এমনকি দেশের মিল-কারখানা ভাঙচুরের ঘটনাতেও তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন তিনি।

এর আগে মোংলা বন্দরের কর্মসূচি শেষ করে সড়কপথে খুলনার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। পথে কাটাখালি মোড়ে আয়োজিত পথসভায় তিনি বক্তব্য দেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন