সংবিধানের মৌলিক ভিত্তি অক্ষুণ্ন রেখে সময়ের প্রয়োজনে পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে: অধ্যাপক জাহিদ হোসেন
রাষ্ট্র কখনো রাগ, ক্ষোভ কিংবা আবেগের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে পারে না; বরং রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি সিদ্ধান্ত হতে হবে যৌক্তিকতা, বাস্তবতা ও জনআকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে। সময়ের প্রয়োজনে মানুষের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে সংবিধানে পরিবর্তন আনা যেতে পারে, তবে তা কোনোভাবেই সংবিধানের মৌলিক ভিত্তি বিনষ্ট করে নয় বলে মন্তব্য করেছেন নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন।
আজ রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে গণফোরাম আয়োজিত ‘বাংলাদেশের সংবিধান দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ কখনোই বাড়াবাড়ি পছন্দ করে না। যারা বাড়াবাড়ি করেছে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। রাষ্ট্রের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এ দেশের মানুষ কখনো ভুল করে না।
তিনি আরও বলেন, যারা সংবিধান সংশোধনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, জনগণ তাদের সমর্থন দিয়েছে এবং নির্বাচিত করেছে। তাই রাষ্ট্র পরিচালনা ও সাংবিধানিক সংস্কারের ক্ষেত্রে জনগণের প্রত্যাশা, মতামত এবং বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
সংবিধানের পরিবর্তন প্রসঙ্গে অধ্যাপক জাহিদ হোসেন বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশারও পরিবর্তন ঘটে। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রয়োজনে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিতে সংবিধানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সেই পরিবর্তন হতে হবে যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য। কোনোভাবেই সংবিধানের মৌলিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় আবেগনির্ভর সিদ্ধান্তের পরিবর্তে যুক্তি, দায়িত্বশীলতা এবং জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন। একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির জন্য সাংবিধানিক ভিত্তি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের সামাজিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের কারণে দেশের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। তারপরও নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায়ের মানুষের মিলেমিশে বসবাসের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, দেশের এই সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থ, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি।
মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাকে সমুন্নত রেখে একটি ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মানুষের অধিকার ও মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেন।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।
গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জ্যেষ্ঠ অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, আইনজীবী, বুদ্ধিজীবী, সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্যদের পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা, সংবিধানের মৌলিক ভিত্তি সংরক্ষণ এবং সময়ের প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক কাঠামোর উন্নয়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

