খেলতে খেলতে শেখার পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ; গণিত, বিজ্ঞান, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও বাড়বে অংশগ্রহণের সুযোগ
প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি কারিকুলামভিত্তিক শিক্ষণীয় খেলনা বা ‘লার্নিং টয়’ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শ্রেণিকক্ষে খেলাধুলার মাধ্যমে আনন্দের সঙ্গে পাঠ গ্রহণের সুযোগ তৈরি এবং শিশুদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘মেধা ও সৃজন উৎসব-২০২৬’-এর সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খেলতে খেলতে শেখার পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন শ্রেণিকক্ষে খেলতে খেলতে পড়াশোনা করতে পারে, সে ধরনের পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে শ্রেণিকক্ষে খেলাধুলার উপযোগী জায়গা রাখার পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ের মতো কারিকুলামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন শিক্ষণীয় খেলনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এসব খেলনার মাধ্যমে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের আরও সহজ ও আনন্দময় উপায়ে পাঠদান করতে পারবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব
শিক্ষার্থীদের বয়স ও শ্রেণি বিবেচনায় খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, ফুটবল, ক্রিকেট, মার্শাল আর্ট ও ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে গান, কবিতা, নাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা হবে। এর মাধ্যমে পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের সৃজনশীলতা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ বাড়বে বলে জানান তিনি।
গণিত-বিজ্ঞানে আগ্রহ বাড়াতে অলিম্পিয়াড
শিক্ষার্থীদের গণিত ও বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণিত অলিম্পিয়াড, কুইজ প্রতিযোগিতা ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের মতো আয়োজন আরও বিস্তৃত করা হবে।
ভবিষ্যতে রোবোটিক্স, প্রোগ্রামিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে।
শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ববি হাজ্জাজ বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ তাদের হাতেই গড়ে উঠবে। শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ নির্মাণের সক্ষমতা যেন তাদের হাতে থাকে, সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।
প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, যারা বিজয়ী হতে পারেনি, তাদের হতাশ না হয়ে আরও মনোযোগ দিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। সামনে তাদের জন্য অনেক সুযোগ অপেক্ষা করছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী।
মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মিরপুর ও পল্লবী থানার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

