শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

উদ্বোধনের দুই বছরেও চালু হয়নি বাউফল সাধারণ পাঠাগার, নষ্ট হচ্ছে বই-আসবাবপত্র

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা সদরে পাবলিক মাঠসংলগ্ন সাধারণ পাঠাগারটি উদ্বোধনের প্রায় দুই বছর পার হলেও এখনো চালু হয়নি। পাঠকশূন্য অবস্থায় পড়ে থাকায় পাঠাগারের ভেতরে থাকা বই ও আসবাবপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে পাঠাগারের সামনের অংশ পরিণত হয়েছে অটোরিকশার স্ট্যান্ডে। আশপাশে মূত্রত্যাগের কারণে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এতে একদিকে যেমন জ্ঞানচর্চার একটি সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান অবহেলায় পড়ে রয়েছে, অন্যদিকে সৃষ্টি হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে তৎকালীন বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়াছ উদ্দিন মিয়ার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ‘বাউফল সাধারণ পাঠাগার’ প্রতিষ্ঠিত হয়। পাঠাগারটির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বাউফল সরকারি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মরহুম আব্দুল সাত্তার। পরে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন কেশবপুর কলেজের সাবেক অধ্যাপক এ কে এম হুমায়ুন কবির। সে সময় সাধারণ সদস্যদের সরাসরি ভোটে পরিচালনা কমিটি গঠন করা হতো। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পাঠাগারটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকত। শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে বই ও সংবাদপত্র পড়তে আসতেন।


একপর্যায়ে পাঠাগারের পুরোনো ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ওই ভবনে বর্তমানে বাউফল রিপোর্টার্স ইউনিটি অবস্থিত। এরপর থেকেই নতুন ভবন নির্মাণ করে পাঠাগারটি পুনরায় চালুর দাবি ওঠে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাউফলের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের উদ্যোগে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবন নির্মাণের পর বাউফলের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম প্রায় দুই বছর আগে পাঠাগারটির উদ্বোধন করেন।


তবে উদ্বোধনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পাঠাগারটি পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। ফলে শিক্ষার্থী, তরুণ ও বইপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে পাঠাগার চালুর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি।


সরেজমিনে দেখা যায়, পাঠাগারের ভেতরে বই ও আসবাবপত্র পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় সেগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাঠাগারের সামনের জায়গায় সারিবদ্ধভাবে অটোরিকশা রাখা হচ্ছে। আশপাশে মূত্রত্যাগের কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ ছাড়া রাতের বেলায় পাঠাগারের ছাদে মাদকসেবীদের আনাগোনা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।


স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পাঠাগার শুধু বই পড়ার জায়গা নয়; এটি একটি এলাকার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মননশীলতা বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। পাঠাগারটি চালু হলে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের বাইরেও বিভিন্ন জ্ঞানমূলক বই, পত্রিকা ও সাময়িকী পড়ার সুযোগ পেতেন। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে জ্ঞানচর্চায় সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্র তৈরি হতো।


বাউফল সাধারণ পাঠাগারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, “পাঠাগারটি চালু হলে শিক্ষার্থীসহ এলাকার সাধারণ মানুষ বই পড়ার সুযোগ পেতেন। কিন্তু প্রায় দুই বছরেও এটি চালু না হওয়ায় বই ও আসবাবপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা চাই, কর্তৃপক্ষ দ্রুত পাঠাগারটি চালু করে জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করুক।”
বাউফল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, “পাঠাগার জ্ঞান অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এটি বন্ধ পড়ে আছে। পাঠাগারের সামনে অটোরিকশা রাখা হয়। আশপাশে মূত্রত্যাগের কারণে দুর্গন্ধে চলাচল করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। রাতের বেলায় ছাদে উঠে মাদকসেবীদের মাদক সেবনের অভিযোগও রয়েছে। বিষয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন।”


এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, “এই সপ্তাহের মধ্যে পাঠাগারটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নয়, পাঠাগারের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা, বই ও আসবাবপত্র সংরক্ষণ, পরিচালনা কমিটি গঠন এবং সামনের জায়গা অটোরিকশার দখলমুক্ত করে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন