শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ইরানকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা, ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের নেগেভ মরুভূমি এলাকার দুটি বিমানঘাঁটিতে ১০টি মার্কিন সামরিক মালবাহী উড়োজাহাজ পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান এ তথ্য জানিয়েছে।

কানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজগুলো ইসরায়েলের ওভদা ও নেভাতিম বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি সামরিক উড়োজাহাজ জর্ডান, সৌদি আরব ও কাতারের সামরিক ঘাঁটিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উড়োজাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট ব্লিস থেকে যাত্রা করেছে। সেখানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম বৃহৎ আকাশ প্রতিরক্ষা কেন্দ্র অবস্থিত। কেন্দ্রটিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাটারিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে।

তবে এসব উড়োজাহাজ মোতায়েনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উড়োজাহাজগুলোতে কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম বহন করা হয়েছে, তা-ও স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে ইরানের ওপর হামলার বিষয়ে ওয়াশিংটন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কানকে দেওয়া বক্তব্যে ইসরায়েলের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামরিক প্রস্তুতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সিদ্ধান্তই নিন না কেন, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ধরন কিংবা সময় সম্পর্কে ওই কর্মকর্তা বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এর আগে চলতি সপ্তাহে কান জানিয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে স্বল্পমেয়াদি ও সীমিত সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে টেক্সাস থেকে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও পাঠানো হয়েছে বলে সম্প্রচারমাধ্যমটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা এড়াতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের সতর্কতামূলকভাবে ঘাঁটি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন সামরিক বাহিনী অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করছে। নভেম্বর মাসে অতিরিক্ত একটি উড়োজাহাজবাহী রণতরি এবং মেরিন সেনাদের একটি ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এসব সামরিক শক্তি সেখানে আগে থেকেই মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০টি যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে যুক্ত হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য হামলার বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল ব্র্যাড কুপার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করেছেন। সংবাদপত্রটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ব্রিফিংয়ের মধ্য দিয়ে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়ে ওয়াশিংটনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেটর ক্রিস মারফি জানিয়েছেন, তিনি এবং আরও কয়েকজন সিনেটর ইরানে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে একটি ব্রিফিং পেয়েছেন। এসব পরিকল্পনাকে ‘উন্মাদনাপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে তিনি সতর্ক করেছেন, এ ধরনের সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং আইনের শাসনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারকে দুর্বল করে দিতে পারে।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়। পরে এপ্রিলে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।

জুনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তবে জলপথটির নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে সমঝোতাটির বাস্তবায়ন থমকে রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার এবং সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার খবর নতুন করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন