বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় মূল তদন্তের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনার রাতে তাহসিফের সঙ্গে থাকা আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া নম্বরবিহীন একটি মোটরসাইকেল তাহসিফের কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে তথ্য সংগ্রহের জন্য পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার রাতে তাহসিফ ও দ্বীপ একসঙ্গে ছিলেন। ওই সময় তাঁরা কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং তাঁদের চলাচলের বিষয়ে দ্বীপের দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত মিলিয়ে দেখছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তবে তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মূল মামলাটি তদন্ত করছে নৌ-পুলিশ। ঘটনাটির জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় নৌ-পুলিশকে সহযোগিতার জন্য পিবিআই ছায়া তদন্ত পরিচালনা করছে। পুলিশের অন্যান্য ইউনিটও নিজ নিজ অবস্থান থেকে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ে কাজ করছে। পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে পাওয়া তথ্য ও আলামত মূল তদন্তকারী সংস্থা নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
এদিকে, তদন্তে নতুন সূত্র হিসেবে সামনে এসেছে একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল। টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন মাজার বস্তি এলাকায় নদীর আনুমানিক ৫০ গজ দূর থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। এটি তাহসিফের নিখোঁজ মোটরসাইকেল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মোটরসাইকেলটির পরিচয় ও মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও নথিপত্রভিত্তিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথাও জানা গেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, উত্তরখান থানাধীন রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে মাজার বস্তি এলাকার দূরত্ব প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার। ফলে উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটির সঙ্গে তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া এবং মৃত্যুর ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
এর আগে গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। পরদিন নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মরদেহে বাইরে থেকে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি।
তাহসিফের মৃত্যুর কারণ, ঘটনার আগে তাঁর চলাচল, সঙ্গে থাকা ব্যক্তির দেওয়া তথ্য এবং উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের পরিচয়—সবকিছুই এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

