বুথফেরত জরিপে কোনো পক্ষই পায়নি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। সর্বশেষ বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর জোট এগিয়ে থাকলেও কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তবে ডানপন্থী জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে বলে দাবি করেছেন নেতানিয়াহু। ফলে নির্বাচনের ফলাফল এবং পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বুথফেরত জরিপে এগিয়ে নেতানিয়াহুর জোট
ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল ১২ তাদের বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাস সংশোধন করেছে। সংশোধিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে ৫২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা হতে পারে ৪৯টি। আরব দলগুলো পেতে পারে ১৯টি আসন।
ইসরায়েলের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। সে হিসাবে জরিপের পূর্বাভাস সত্যি হলে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না।
বিভিন্ন জরিপের ফলেও নেতানিয়াহুর জোট ও তাঁর ইহুদি প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে আসনসংখ্যার ব্যবধান কম থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ভোট পড়েছে ৭৭.৭ শতাংশ
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ১৯৯৯ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ ভোটের হার বলে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বিপুলসংখ্যক ইসরায়েলি ভোট দিতে যান। বিশেষ করে আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভোট দেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য ছিল। তাদের একটি বড় অংশের লক্ষ্য ছিল নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী জোটকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ভূমিকা রাখা।
তবে ভোটের হার বেশি হলেও তা কোনো পক্ষের জন্য সরকার গঠনের নিশ্চয়তা তৈরি করেনি। বরং আসনসংখ্যার কাছাকাছি অবস্থান রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
‘নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ পাওয়ার দাবি নেতানিয়াহুর
জেরুজালেমে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, তাঁর লিকুদ পার্টিই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় দল। তিনি একটি ‘জাতীয় ডানপন্থী সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান।
নেতানিয়াহু বলেন, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল এক বা দুই দিনের মধ্যে জানা যাবে। তবে এরই মধ্যে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, লিকুদ পার্টি অন্য দলগুলোর তুলনায় এগিয়ে রয়েছে এবং ডানপন্থী জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি জাতীয় ডানপন্থী সরকার গঠন করতে হবে।’ ইসরায়েলের অস্তিত্বের বিরোধী বলে তিনি যেসব আরব নেতৃত্বাধীন দলকে উল্লেখ করেছেন, তাদের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠন করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু।
এ ছাড়া টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর ভালো ফলের পূর্বাভাস দিয়ে তাঁর সমর্থকদের ভোটদানে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করার অভিযোগ তোলেন তিনি।
ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, সরকার গঠন নিয়ে অচলাবস্থা এড়াতে নেতানিয়াহু ও তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন শিবিরের মধ্যে সমঝোতার বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে। ডানপন্থী ও মধ্যপন্থী দলগুলোকে নিয়ে ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
তবে এ ধরনের সরকার গঠনের পথে বড় বাধা হতে পারে আইজেনকোটের অবস্থান এবং তাঁর সমর্থকদের মনোভাব। সমর্থকদের একটি বড় অংশ নেতানিয়াহুর বিরোধী। ফলে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আইজেনকোটের সম্মতি পাওয়া সহজ নাও হতে পারে।
ঐক্য সরকার গঠিত হলেও নেতৃত্ব কে দেবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নেতানিয়াহু সহজে ক্ষমতা ছাড়তে চাইবেন না। অন্যদিকে, আইজেনকোট আগেই জানিয়েছেন, তিনি এমন কারও নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেবেন না, যাঁকে তিনি ইসরায়েলের নেতৃত্ব দেওয়ার অযোগ্য মনে করেন।
ভোট গণনা চলছে, বিশেষ খামের ভোটও গণনা হবে
নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। সাধারণ ভোটকেন্দ্রগুলোর গণনা শেষ হওয়ার পর ‘ডাবল এনভেলপ’ নামে পরিচিত বিশেষ খামে থাকা ভোট গণনা করা হবে।
সেনাসদস্য, কূটনীতিক, চিকিৎসক ও নার্সদের মতো দায়িত্বের কারণে নিয়মিত ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে না পারা ব্যক্তিরা এসব বিশেষ খামে ভোট দিয়েছেন। এ ধরনের খামের সংখ্যা প্রায় ছয় লাখ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাধারণত বিশেষ খামে দেওয়া ভোট নির্বাচনের সামগ্রিক ফলে বড় পরিবর্তন আনে না। তবে বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাসে আসনসংখ্যার হিসাব পরিবর্তিত হওয়ায় চূড়ান্ত ফলের দিকে নজর রয়েছে।
সরকার গঠনে আরব দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে
নির্বাচনের প্রাথমিক পূর্বাভাসে ইহুদি-ইসরায়েলি ভোটারদের মধ্যে বিভক্তির চিত্র উঠে এসেছে। রেকর্ডসংখ্যক ভোটার অংশ নিলেও কোনো জোট এককভাবে সরকার গঠনের মতো আসন পায়নি।
এ পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের কোনো দলের সমর্থন আদায় অথবা ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করতে হতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, পরবর্তী নেসেটে আরব দলগুলো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন পেতে পারে।
তবে বুথফেরত জরিপের ফল চূড়ান্ত নয়। ভোট গণনা শেষ হওয়ার পরই আসনবণ্টনের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। সেই ফলের ওপর নির্ভর করবে নেতানিয়াহু নতুন সরকার গঠনে কতটা এগোতে পারবেন এবং ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা এড়াতে কী ধরনের সমঝোতা প্রয়োজন হবে।

