রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

মেট্রোরেল থেকে সেমিকন্ডাক্টর—জাপানের কাছে ১২ খাতে বিনিয়োগ চাইবে বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টোকিও সফরে ১২ খাতে অগ্রাধিকার, মেট্রোরেল-বন্দর উন্নয়ন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও দক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন টোকিও সফরে জাপানের কাছে ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের কৌশলগত বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্যাকেজের প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৬-২০৩১ মেয়াদের প্রস্তাবিত এই প্যাকেজে ১২টি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত প্যাকেজের লক্ষ্য হলো স্বল্প সুদের ঋণ, বেসরকারি বিনিয়োগ, কারিগরি সহযোগিতা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) সমন্বয়ে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা। এর কয়েকটি উদ্যোগ বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় বা ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ (বিগ-বি) ২.০ কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত।

বাংলাদেশ ও জাপানের গুরুত্বপূর্ণ যৌথ উদ্যোগ বিগ-বির আওতায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে যুক্ত করে সমন্বিত শিল্প ও লজিস্টিকস করিডোর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প, বন্দর ও যোগাযোগব্যবস্থাকে আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। ১৯৭১ সাল থেকে দেশটি বাংলাদেশকে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি উন্নয়ন সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান বছরে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে। তবে এবারের প্রস্তাবিত প্যাকেজে প্রচলিত সরকারি উন্নয়ন সহায়তার (ওডিএ) পাশাপাশি সরাসরি বেসরকারি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পরিবহন ও নগর যোগাযোগে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব

পরিবহন ও নগর যোগাযোগ খাতে জাপানের কাছে ৫৫০ বিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ। এ অর্থে মেট্রোরেল সম্প্রসারণ, রেল যোগাযোগ উন্নয়ন, গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ এবং চট্টগ্রাম-মাতারবাড়ী-কক্সবাজার অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে এমআরটি লাইন-১, এমআরটি লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুট এবং এমআরটি লাইন-৬-এর সম্প্রসারণ। ইআরডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমআরটি লাইন-১-এর জন্য অতিরিক্ত ৫৯৬ বিলিয়ন ইয়েন এবং এমআরটি লাইন-৫-এর জন্য ৫১৫ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ইয়েন অর্থায়নের প্রয়োজন রয়েছে। এসব প্রকল্পে ঋণ দিতে জাপান ইতিমধ্যে সম্মতি জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে সরাসরি যুক্ত করতে মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার সহায়তা চাওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, প্রকৌশল নকশা, জলবায়ু-সহনশীল সংযোগ সড়ক এবং সেতু নির্মাণের জন্য সহযোগিতা চাওয়া হবে।

কক্সবাজার-মহেশখালী চ্যানেলের ওপর সেতু নির্মাণেরও প্রস্তাব রয়েছে। এর মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে মহেশখালীর সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগের (এমআইডিআই) যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী হবে।

পাশাপাশি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের প্রকৌশল সেবার জন্য ৩ দশমিক ৮৩১ বিলিয়ন ইয়েন সহায়তা চাওয়া হবে।

মাতারবাড়ীকে শিল্প ও বাণিজ্যের আঞ্চলিক কেন্দ্রে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা

সমন্বিত শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে এমআইডিআই এবং মাতারবাড়ী হাবের জন্য ৫০০ বিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৩ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রস্তাব দেবে সরকার।

প্রস্তাবিত অর্থায়নে গভীর সমুদ্রবন্দর ও লজিস্টিকস, সড়ক ও রেল যোগাযোগ, শিল্প অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক হাব গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, এমআইডিআইয়ের অধীনে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জাইকার সহায়তায় ২০৪১ সাল পর্যন্ত একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপ। এ প্রকল্পে জাইকার ১০৫ দশমিক ৩৬২ বিলিয়ন ইয়েন ঋণ সহায়তা রয়েছে।

প্রকল্পটির আওতায় কনটেইনার ও বহুমুখী টার্মিনাল, ড্রেজিং, প্রবেশপথের সড়ক এবং বন্দর-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

মহেশখালীর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের প্রস্তাবিত সেতুটি বন্দর, শিল্পাঞ্চল, জ্বালানি অবকাঠামো, সুনীল অর্থনীতি ও পর্যটন খাতের কার্যক্রম সহজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণেও জাপানের বড় ধরনের অর্থায়ন রয়েছে। এ প্রকল্পের জন্য জাইকা আট কিস্তিতে মোট ৭১২ দশমিক ৪৩০ বিলিয়ন ইয়েন ঋণ দিয়েছে।

অটোমোবাইল, সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ

রপ্তানিমুখী যানবাহন ও অটো পার্টস উৎপাদন খাতে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের। পাশাপাশি দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌথভাবে সেমিকন্ডাক্টর ও ন্যানোটেকনোলজি গবেষণাগার স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হবে।

প্রস্তাবিত গবেষণাগারগুলোর মাধ্যমে দেশে চিপ প্রযুক্তির বিকাশ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাপানের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী তৈরিতেও বাংলাদেশ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোনে জাপানি উৎপাদনকারীদের আকৃষ্ট করে গাড়ি ও অটো পার্টসের কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। এসব কারখানায় উৎপাদিত গাড়ি ও যন্ত্রাংশ মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে জাপানসহ আঞ্চলিক বাজারে রপ্তানির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইলেকট্রনিকস, যন্ত্রপাতি এবং প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং খাতেও বিনিয়োগ বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। প্রস্তাবিত দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) প্রযুক্তি হস্তান্তর, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিল্পের সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং রপ্তানি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জ্বালানি ও জলবায়ু খাতে ২.২ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব

জ্বালানি ও জলবায়ু খাতের জন্য ৩৫০ বিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ২ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন চাওয়া হবে। এর মধ্যে জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের জন্য ২০০ বিলিয়ন ইয়েন এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে ১৫০ বিলিয়ন ইয়েন রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সক্ষমতা এবং নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এনার্জি স্টোরেজ ও বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার আধুনিকায়নে জাপানের বিনিয়োগ চাইবে বাংলাদেশ। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্যের সঙ্গে এসব উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামোর আওতায় উপকূল সুরক্ষা, বাঁধ নির্মাণ, সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু-সহনশীল নগর অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমের জন্য অনুদান ও সহজ শর্তের ঋণ সহায়তাও চাইবে সরকার।

কৃষি, সুনীল অর্থনীতি ও পর্যটনে ১.২২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ

কৃষি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, সুনীল অর্থনীতি ও পর্যটন খাতে মোট ১৯৫ বিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ১ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হবে। এর মধ্যে কৃষি ও কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে ১২০ বিলিয়ন ইয়েন এবং সুনীল অর্থনীতি ও পর্যটন খাতে ৭৫ বিলিয়ন ইয়েন ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি খাতে দেশের উত্তরাঞ্চলকে আধুনিক, উৎপাদনশীল ও রপ্তানিমুখী কৃষি হাবে পরিণত করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে জাপানি প্রযুক্তির সহায়তায় স্মার্ট সেচ, প্রিসিশন ফার্মিং এবং আধুনিক কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

সুনীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে বঙ্গোপসাগরের সম্পদের টেকসই ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ খাতে গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ, আধুনিক সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, আন্তর্জাতিক মানের সনদ অর্জন, উপকূলীয় অবকাঠামো, মেরিন লজিস্টিকস এবং শীতল সরবরাহব্যবস্থা উন্নয়নের প্রস্তাব রয়েছে।

পর্যটন খাতে কক্সবাজার, সুন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে টেকসই পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইকো-রিসোর্ট, হোটেল, ওয়েলনেস সেন্টার এবং ডিজিটাল পর্যটন সেবায় জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জাপানি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পাহাড়পুর, ময়নামতি, মহাস্থানগড়, রাঙামাটি ও বান্দরবানকে যুক্ত করে বৌদ্ধ তীর্থযাত্রা সার্কিট গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ সার্কিটে জাপানি ভাষার গাইড, দিকনির্দেশনা এবং দোভাষী সেবা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হবে।

প্রতি বছর এক লাখ কর্মী ও শিক্ষার্থী পাঠানোর লক্ষ্য

জাপানের শ্রমবাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং বাংলাদেশের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রতি বছর এক লাখ দক্ষ কর্মী ও শিক্ষার্থী জাপানে পাঠানোর প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি মানবসম্পদ করিডোর গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

ইআরডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল—এই তিন মাসে ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মসংস্থান ভিসায় জাপানে গেছেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছর প্রায় ২৫ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জাপানে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন।

এ ছাড়া প্রকৌশল, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং প্রযুক্তি খাতে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জন, কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন এবং নির্দিষ্ট দক্ষ কর্মী হিসেবে প্রায় ১ হাজার ৬০০ জন জাপানে গেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতি বছর এক লাখ কর্মী ও শিক্ষার্থী পাঠানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাপানি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যৌথ অর্থায়নে একটি মানবসম্পদ উন্নয়ন বিশেষ অঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ।

এ বিশেষ অঞ্চলে জাপানি ভাষা ও পেশাগত সনদ প্রদান কেন্দ্রের পাশাপাশি নার্সিং, কেয়ারগিভিং, ড্রাইভিং, আইসিটি, মেকানিকস, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং উৎপাদন খাতে বিশেষায়িত কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষক, আধুনিক পাঠ্যক্রম এবং স্বীকৃত সনদের মাধ্যমে জাপানে যাওয়ার আগেই কর্মীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বেসরকারি বিনিয়োগে প্রকল্প প্রস্তুতির উদ্যোগ

বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্প প্রস্তুত করে বেসরকারি পুঁজি আকর্ষণে ২৫ বিলিয়ন ইয়েনের একটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব প্রকল্প প্রস্তুতি তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে সম্ভাবনাময় প্রকল্পগুলোর কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ সহজ করার লক্ষ্য রয়েছে।

এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সংলাপ চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হবে।

ইআরডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে ৩৩৮টি জাপানি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ৫০০-তে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, প্রস্তাবিত ১৪ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু অভিযোজন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে চায় বাংলাদেশ। তবে এসব প্রস্তাবের বাস্তবায়ন নির্ভর করবে দুই দেশের আলোচনার ফলাফল, অর্থায়নের শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন