শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

জার্মানিকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের পোশাকের প্রধান বাজার স্পেন

প্রথম প্রান্তিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩.৩৩ শতাংশ; মোট প্রবৃদ্ধির প্রায় ৮৮ শতাংশ এসেছে স্পেনের বাজার থেকে

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে জার্মানিকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছে স্পেন। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) স্পেনে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় ইইউতে দেশের একক বৃহত্তম পোশাক রপ্তানি গন্তব্যে পরিণত হয়েছে দেশটি।

এক বছর আগেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় ইউরোপীয় বাজার ছিল জার্মানি। গত অর্থবছরের একই সময়ে দেশটিতে ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছিল। বিপরীতে, স্পেনে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি ডলারের কিছু বেশি। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বাজার দুটির অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে।

ইইউতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩.৩৩ শতাংশ

চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৪৯০ কোটি ৪০ লাখ ২ হাজার ডলারের। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৭৪ কোটি ৬১ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১৫ কোটি ৭৯ লাখ ডলার, প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.৩৩ শতাংশ।

রপ্তানি বৃদ্ধির এই ধারায় সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে স্পেনের বাজার। আলোচ্য সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৩ কোটি ৮৬ লাখ ২০ হাজার ডলার। ইইউর বাজারে মোট নিট রপ্তানি বৃদ্ধির প্রায় ৮৮ শতাংশ এসেছে স্পেন থেকে।

এতে স্পেনের বাজার বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রচলিত বড় বাজারগুলোর পাশাপাশি স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডের মতো বাজারে রপ্তানি বাড়ার প্রবণতা ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির গন্তব্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সেপ্টেম্বরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আরও বেশি

একক মাসের হিসাবেও ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এ অঞ্চলে রপ্তানি আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৫.৫৩ শতাংশ বেড়ে ১৪১ কোটি ১ লাখ ১১ হাজার ডলারে পৌঁছেছে।

প্রথম প্রান্তিকের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় সেপ্টেম্বরে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হওয়ায় ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির গতি নিয়ে ইতিবাচক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। তবে এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ক্রেতাদের চাহিদা, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতা এবং উৎপাদন ব্যয়ের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডে প্রবৃদ্ধি

ইউরোপের প্রধান পোশাক বাজারগুলোর মধ্যে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে। দেশভিত্তিক হিসাবে স্পেনে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩.৭৩ শতাংশ, নেদারল্যান্ডসে ৯.০২ শতাংশ এবং পোল্যান্ডে ৫.৭৭ শতাংশ।

বিশেষ করে পোল্যান্ডের বাজারে সেপ্টেম্বরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০.২৫ শতাংশ। তালিকাভুক্ত পাঁচটি বড় বাজারের মধ্যে একক মাসের হিসাবে এটি সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি।

এ প্রবণতা ইঙ্গিত করছে, ইউরোপের কয়েকটি বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। রপ্তানি বাজারে বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে এসব দেশের গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।

জার্মানি ও ফ্রান্সে রপ্তানি কমেছে

ইউরোপের ঐতিহ্যগত বড় বাজারগুলোর মধ্যে জার্মানি ও ফ্রান্সে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। প্রথম প্রান্তিকে জার্মানিতে রপ্তানি কমেছে ০.১৫ শতাংশ এবং ফ্রান্সে কমেছে ৪.৯১ শতাংশ।

এ ছাড়া ইইউর অন্যান্য দেশগুলোতে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ২.২৪ শতাংশ।

ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি মূলত কয়েকটি বাজারের ইতিবাচক পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে স্পেনের বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি না হলে ইইউতে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি বৃদ্ধির চিত্র ভিন্ন হতে পারত।

রপ্তানি বাজারে বৈচিত্র্যের গুরুত্ব

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের অন্যতম প্রধান রপ্তানি গন্তব্য। এ অঞ্চলের বাজারে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে প্রচলিত বড় ক্রেতাদেশগুলোর পাশাপাশি দ্রুত বর্ধনশীল বাজারগুলোতেও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ।

স্পেনের শীর্ষে উঠে আসা এবং নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডে রপ্তানি বৃদ্ধির প্রবণতা বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বাজারভিত্তিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে, জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো বড় বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ায় এসব দেশে চাহিদার গতিপ্রকৃতি ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সামগ্রিকভাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক থাকলেও এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশ একটি বাজারের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি আয় বাড়াতে নতুন বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদ্যমান বড় বাজারগুলোতে অবস্থান শক্তিশালী করাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন