শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে সারাদেশে ২ লাখ ১২ হাজার ৮১৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। ১৫ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পূজামণ্ডপ ও মন্দিরের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন তাঁরা। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১০৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টিমের ৬২৪ সদস্যকে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আনসার-ভিডিপি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
তিনি জানান, মোতায়েন করা সদস্যদের মধ্যে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৮৮ জন পুরুষ এবং ৬৬ হাজার ৩৩০ জন নারী সদস্য রয়েছেন। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, দক্ষ জনবল ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এবারের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
মহাপরিচালক বলেন, গত দুই বছরে তৃণমূলভিত্তিক সংস্কার, প্রশিক্ষণের আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বাহিনীর কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তরুণদের দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তুলতে কলেজভিত্তিক ভিডিপি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও চালু করা হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণেরা দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতার বাস্তব প্রয়োগ করবেন।
তিনি আরও জানান, আনসার-ভিডিপির সদস্যদের তথ্য ব্যবস্থাপনায় আনসার-ভিডিপি ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (AVMIS) এবং সদস্যদের যাচাই-বাছাই ও মোতায়েন কার্যক্রমে STDMS ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার আওতায় সদস্যদের ভাতা সরাসরি তাঁদের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কথাও জানান তিনি।
নিরাপত্তা তদারকি ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, জরুরি ঘটনায় সমন্বিত পদক্ষেপ এবং গুজব প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, অ্যাপটির End-User, Responder ও Oversight Panel—এই তিনটি পর্যায়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকি করা হবে। পূজামণ্ডপে দায়িত্বে থাকা ভিডিপি সদস্যরা মাঠপর্যায়ের তথ্য সরবরাহ করবেন। অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নেবে।
মহাপরিচালকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূজামণ্ডপের গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় তিন শ্রেণিতে নিরাপত্তা জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৬ হাজার ৯১৪টি মণ্ডপে প্রতিটিতে আটজন করে এবং গুরুত্বপূর্ণ ১১ হাজার ৭৮১টি ও সাধারণ ১৪ হাজার ৪৭০টি মণ্ডপে প্রতিটিতে ছয়জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অনুষ্ঠানে তিনজন অঙ্গীভূত আনসার সদস্যকে পুরস্কৃত করেন বাহিনীর মহাপরিচালক।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমুন্নত রেখে দুর্গাপূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে সদস্যরা নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বাহিনীর সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

