বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের অঙ্গীকার

হেলমেটের মান হালনাগাদ, গতিসীমা কার্যকর ও দুর্ঘটনা-পরবর্তী চিকিৎসাব্যবস্থা জোরদারে উদ্যোগ; ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার অর্ধেকে নামানোর লক্ষ্য

২০২৭ সালের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হেলমেটের মান হালনাগাদ, গতিসীমা কার্যকর, দুর্ঘটনা-পরবর্তী চিকিৎসাব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং মহাসড়কে নিরাপদ অবকাঠামো গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ব্র্যাকের রোড সেইফটি প্রোগ্রাম ও রোড সেইফটি কোয়ালিশন বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার’ শীর্ষক এ বৈঠকের আয়োজন করে।

আইন প্রণয়নে দ্রুত উদ্যোগ

শেখ রবিউল আলম বলেন, “২০২৭ সালের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করতে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নিতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, জাতীয় ও বৈশ্বিক অঙ্গীকার অনুযায়ী সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে হেলমেটের মান হালনাগাদ, গতিসীমা কার্যকর করা এবং এ-সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রণয়ন।

এ ছাড়া দুর্ঘটনার পর চিকিৎসাব্যবস্থা শক্তিশালী করা, আন্ডারপাস নির্মাণ, মহাসড়কে বামদিকের লেন তৈরির প্রকল্প গ্রহণ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপার নিশ্চিত করা এবং সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নেও কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নেই

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সরকার, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ করলেও সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “জাতি হিসাবে আমাদের নিজেদের নিরাপদ না রাখার প্রবণতা অন্যদেরকেও অনিরাপদ করে তুলেছে।”

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ কেবল একটি নির্দিষ্ট দিবসকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

২০৩০ সালের মধ্যে মৃত্যুহার অর্ধেকে নামানোর লক্ষ্য

মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হলে সরকার, বেসরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট সব সংগঠন ও পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সড়ক নিরাপত্তায় ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা

জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস-২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে দেশের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, এ বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার, সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ব্র্যাকের রোড সেইফটি প্রোগ্রামের পরিচালক আহমেদ নাজমুল হুসেইন এবং কর্মসূচির ব্যবস্থাপক এম খালিদ মাহমুদ আলোচনায় অংশ নেন।

খালিদ মাহমুদ তাঁর উপস্থাপনায় বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সরকারের অঙ্গীকার ও সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন। পাশাপাশি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নসহ নীতিগতভাবে যেসব বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন, সেগুলোও তুলে ধরেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন