সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গাপূজায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ: আইজিপি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে মাঠপর্যায়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ

শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। পূজার আগে, পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা-পরবর্তী সময়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাবিষয়ক সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে পুলিশের নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কোনো মহল বা গোষ্ঠী যাতে এ উৎসবকে ঘিরে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্ট, অপপ্রচার, গুজব কিংবা ছবি প্রকাশের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা এবং নিয়মিত পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানায়, দুর্গাপূজা চলাকালে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোশাকধারী ও সাদাপোশাকের পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। এ ছাড়া পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সসহ বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে চালু থাকবে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল।

সভায় পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, সিসিটিভি সচল রাখা এবং স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানানো হয়। প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সভায় উপস্থিত বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা দুর্গাপূজা উপলক্ষে গৃহীত নিরাপত্তাব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সরকার ও পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

সভায় অতিরিক্ত আইজিপি, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের প্রধান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মহানগর পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার ও নৌ পুলিশের পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হন।

উল্লেখ্য, এ বছর সারা দেশে প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন