সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

কলকাতা থেকে আসা যাত্রীর ব্যাগে ডায়মন্ড-রুবিসহ বিপুল অলংকার, মামলা

আচারের বয়ামে লুকানো ছিল মূল্যবান পাথর ও গয়না, কলকাতা থেকে আসা যাত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক যাত্রীর কাছ থেকে ডায়মন্ড, প্লাটিনাম, রুবি ও স্বর্ণালংকারসহ বিপুল পরিমাণ মূল্যবান পাথর আটক করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম। আটক করা এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কলকাতা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৯৬ ফ্লাইটে ঢাকায় আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে এসব পণ্য আটক করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট যাত্রীর বিরুদ্ধে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিমের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নজরদারি

এনবিআর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম এবং বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকারী সি-শিফটের কর্মকর্তারা বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি করছিলেন।

এ সময় এমডি জনি রহমান নামের ওই যাত্রী ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম সম্পন্ন করে ব্যাগেজ ঘোষণা ছাড়াই গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার চেষ্টা করেন। সন্দেহের ভিত্তিতে তাঁর ব্যাগ স্ক্যান করা হলে আচারের বয়ামের মধ্যে ধাতবজাতীয় পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত হয়।

পরে ব্যাগেজ তল্লাশি করে ইনভেন্টরির মাধ্যমে ডায়মন্ড পাথর সংযুক্ত স্বর্ণ ও প্লাটিনামের অলংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান পাথর উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অলংকার ও মূল্যবান পাথর

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আটক পণ্যের মধ্যে রয়েছে ডায়মন্ড পাথর সংযুক্ত ৩৮৯টি স্বর্ণের আংটি, যার ওজন ৪৭৮ গ্রাম। এ ছাড়া ১৫১টি প্লাটিনামের আংটি উদ্ধার করা হয়েছে, যার ওজন ৪৫০ গ্রাম।

অন্যান্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে ডায়মন্ড পাথর সংযুক্ত সাদা স্বর্ণের অলংকার, রুপার আংটি, স্বর্ণের লকেট, চেইন ও নাকফুল। পাশাপাশি ৪৫ ক্যারেট ডায়মন্ড পাথর, পোখরাজ, রুবি ও অন্যান্য মূল্যবান পাথর এবং ২৩টি জুয়েলারি সার্টিফিকেট কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

মোট ওজন ১ হাজার ৫৪ গ্রাম, বাজারমূল্য ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা

এনবিআর জানায়, আটক করা পণ্যের মোট ওজন ১ হাজার ৫৪ গ্রাম। স্বর্ণালংকারের প্রত্যয়ন অনুযায়ী, এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নজরদারি ও ব্যাগ স্ক্যানের মাধ্যমে পণ্যগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ব্যাগেজ ঘোষণা ছাড়াই গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের সময় সন্দেহজনক পণ্য শনাক্ত হওয়ার পর তল্লাশি চালানো হয়।

যাত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট যাত্রীর বিরুদ্ধে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিমের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আটক পণ্যগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিমানবন্দরে শুল্ক ফাঁকি ও অবৈধভাবে মূল্যবান পণ্য আনা ঠেকাতে কাস্টমসের নজরদারি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয় বলে এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন