বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন। একই সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত রাশিয়ান নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি ডিভিশনের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োজিত রাশিয়ান নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি কূটনৈতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি ডিভিশনের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে আইজিপিকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পুলিশিং কার্যক্রমে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
জবাবে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূতের আগ্রহকে স্বাগত জানান। তিনি দুই দেশের পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আইজিপি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ, উত্তম চর্চা বিনিময় এবং তথ্য আদান-প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, এ ধরনের নিয়মিত যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।
সাক্ষাৎকালে সাইবার নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন আইজিপি। পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে রাশিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এ ছাড়া নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তাদের উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরিতে রাশিয়ান ফেডারেশনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন আইজিপি। এর মাধ্যমে পুলিশের পেশাগত দক্ষতা ও আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ, তথ্য বিনিময় এবং পারস্পরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
এ সময় বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

