শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রাণিসম্পদে গবেষণার সুফল পৌঁছাতে হবে খামারিদের কাছে: কৃষিমন্ত্রী

বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনের যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস • উৎপাদনশীলতা, রোগ প্রতিরোধ ও উন্নত জাত উদ্ভাবনে গবেষণায় গুরুত্ব • উদ্ভাবিত প্রযুক্তি দ্রুত মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার তাগিদ

দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। একই সঙ্গে গবেষণাকে আরও বাস্তবমুখী করে এর সুফল সরাসরি খামারি ও উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার সকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) পরিচালনা বোর্ডের ৪৯তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি সভায় সভাপতিত্ব করেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞান সৃষ্টির পেছনে গবেষকদের মেধা, শ্রম, সময় ও নিষ্ঠা রয়েছে। ফলে তাদের গবেষণালব্ধ অর্জনের যথাযথ স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন প্রয়োজন।

গবেষণা ও উদ্ভাবনের স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিজ্ঞানীদের কাজ যথাযথভাবে মূল্যায়িত না হলে ভবিষ্যতে গবেষণার প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে। এ কারণে উদ্ভাবনী গবেষণাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি বিজ্ঞানীদের প্রণোদনা ও স্বীকৃতির সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

গবেষণার সুফল মাঠে পৌঁছানোর তাগিদ

প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, রোগ প্রতিরোধ, উন্নত জাত উদ্ভাবন, নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গবেষণাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন কৃষিমন্ত্রী।

তবে গবেষণা শুধু গবেষণাগার বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর ফলাফল খামারি ও উদ্যোক্তাদের কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, গবেষণা কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী করতে হবে, যাতে এর সুফল সরাসরি খামারি ও উদ্যোক্তারা পান। একই সঙ্গে গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি দ্রুত মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের বর্তমান অগ্রগতির পেছনে গবেষকদের দীর্ঘদিনের কাজের অবদান রয়েছে উল্লেখ করে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে।

গবেষণায় সরকারি সহায়তার বিষয়ে মন্ত্রী আগেও একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরেছেন। গত জুনে বিএলআরআইয়ের একটি অনুষ্ঠানে তিনি গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কথা জানিয়েছিলেন এবং দেশের অগ্রগতির জন্য গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

প্রশাসনিক, আর্থিক ও গবেষণা কার্যক্রম পর্যালোচনা

বিএলআরআই পরিচালনা বোর্ডের ৪৯তম সভায় প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন প্রশাসনিক, আর্থিক ও গবেষণাসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়।

সভায় পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালাম উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বিএলআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ছাদেক আহমেদ ও ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদ, বোর্ড সদস্য ডা. মো. সফিউল আহাদ সরদার এবং বোর্ডের সদস্যসচিব ও বিএলআরআই মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকসহ পরিচালনা বোর্ডের সদস্যরা সভায় অংশ নেন।

সভায় প্রাণিসম্পদ গবেষণাকে মাঠপর্যায়ের প্রয়োজনের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা এবং উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সুফল খামারি ও উদ্যোক্তাদের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন