অনুসরণ করুন:
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘অভ্যুত্থানের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বিএনপি জনগণের সঙ্গে বেঈমানি করছে’: শফিকুর রহমান

আট দফা মানা না হলে এক দফার আন্দোলনের প্রস্তুতির আহ্বান

সিরাজগঞ্জ, ১৯ সেপ্টেম্বর: চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ তুলে বিএনপির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না করে বিএনপি তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছে ১১ দলীয় ঐক্য।

সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বিএনপি জনগণের সঙ্গে বেঈমানি করছে।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন না করে ক্ষমতাসীনরা জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে।

প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, মানুষের উপস্থিতি আট দফা দাবি আদায়ের পক্ষে তাদের অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ। এসব দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

‘৮ দফা না মানলে এক দফা’

আট দফা দাবি আদায় না হলে আন্দোলন এক দফায় রূপ নিতে পারে বলেও জানান ডা. শফিকুর রহমান। নেতাকর্মীদের সে ধরনের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি। হাটিকুমরুলের সমাবেশে তাঁর এ বক্তব্য অন্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির দখলদারি, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও সন্ত্রাস বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল রাষ্ট্র সংস্কার, হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন। কিন্তু এসব প্রত্যাশা পূরণ না করে দলীয়করণের পথে হাঁটা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান

সমাবেশে জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান দেখানো অপরিহার্য। জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ যে রায় দিয়েছেন, তার যথাযথ বাস্তবায়ন হয়নি। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারসংকটসহ জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে দাবি উত্থাপনের পরও প্রত্যাশিত ফল না এলে রাজপথে কর্মসূচি দেওয়া রাজনৈতিকভাবে স্বাভাবিক পরবর্তী পদক্ষেপ। সেই ধারাবাহিকতায় ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা-রংপুর লংমার্চ করছে বলে জানান তিনি। কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালনের কথাও বলেন এনসিপির এই নেতা।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে যাত্রা

এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়। রংপুর অভিমুখে যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা করে জোটটি। হাটিকুমরুল ছিল কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথসভাস্থল।

সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহিনুর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, সারজিস আলম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ অন্যরা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন