সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদক-সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছে প্রশাসন, ঢাকায় ২৪ ঘণ্টা টহলের নির্দেশ

ঢাকা জেলায় মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে অভিযান জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি। চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকায় ২৪ ঘণ্টা পুলিশি টহল, নিয়মিত চেকপোস্ট এবং মাদকের স্পটে বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি যানজট, অবৈধ দখল, শব্দদূষণ, জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গু পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

মাদকের ২৭৪ মামলা, লুণ্ঠিত ৭ অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য

সভায় জানানো হয়, সম্প্রতি মাদকসংক্রান্ত ২৭৪টি মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে আগে লুণ্ঠিত সাতটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অবশিষ্ট লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গেন্ডারিয়া, ঢাকা-১১ আসনের বস্তি এলাকা এবং জেলার চিহ্নিত মাদক স্পটগুলোতে বিশেষ যৌথ অভিযান চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পদধারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার বিষয়েও সভায় নির্দেশনা দেওয়া হয়। জননিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পুলিশি নজরদারি আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়।

ফুটপাত-অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদের নির্দেশ

ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণেও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি। প্রধান সড়কে সভা-সমাবেশ ও মিছিলের কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া, কাপ্তান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং অবৈধ বাস ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে এলাকাভিত্তিক সার্বক্ষণিক পুলিশি টহল এবং নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। রেস্তোরাঁ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে উচ্চশব্দে স্পিকার ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও জোনভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বর্ষায় জলাবদ্ধতা কমাতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা দ্রুত সংস্কার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের তাগিদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে জেলাজুড়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দপ্তরকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য মো. নাহিদ ইসলাম, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম, বিএনপির কেরানীগঞ্জের সাংগঠনিক সম্পাদক আরফান ইবনে আমান অমি, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপারসহ জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন