সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি মাধ্যমে হজ পালনে নানা সুবিধা, বেসরকারিতে ঝুঁকি : ধর্মবিষয়ক সচিব

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেছেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত। এ ছাড়াও রয়েছেন নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা। পক্ষান্তরে  বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি।

এরপরও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ্জ পালন নিয়ে বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। এসব ভ্রান্ত ধারণা দূর করে সরকারি মাধ্যমে হজযাত্রী নিবন্ধনের হার বাড়াতে এবং কোটার অন্তত ২৫ শতাংশ নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে খুলনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহযোগিতায় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ কর্মশালার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি। এতে মূল আলোচক ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. কামরুল হাসান। বিশেষ আলোচক ছিলেন খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম।

আলোচনা করেন খুলনার জেলা প্রশাসক মিজ্ হুরে জান্নাত। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন খুলনার পরিচালক মোহাম্মদ মহীউদ্দীন মজুমদার।

কর্মশালায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুবিধা তুলে ধরে বলা হয়- সরকারি মাধ্যমে হজ পালন পুরোপুরি নিরাপদ এবং ঝুঁকিমুক্ত, প্রতি ৪৪ জন হজযাত্রীর জন্য একজন করে আরবি জ্ঞানসম্পন্ন, দক্ষ ও অভিজ্ঞ হজ গাইডের ব্যবস্থা থাকে, হজ প্যাকেজে যেসব সেবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তার শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হয়, হজ প্যাকেজের অব্যবহৃত অর্থ এবং যেকোনো রিফান্ডের টাকা সরাসরি হজযাত্রীর নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত দেওয়া হয়, হজ প্যাকেজ-১ এর হজযাত্রীদের জন্য জামারার কাছাকাছি তাঁবুতে (তাঁবু জোন-২) থাকার ব্যবস্থা করা হয়।

তবে সরকারি হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে, যা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে-সরকারি মাধ্যমে হজ শুধু সরকারি চাকরিজীবী বা সরকারি লোকজনের জন্য প্রযোজ্য (যা সঠিক নয়), থাকার বাড়ি অনেক দূরে হয়, নিজ ব্যবস্থাপনায় খাবার গ্রহণ করতে হয়, হাজীদের দেখাশোনার জন্য কোনো গাইড থাকে না।

কর্মশালায় আরও জানানো হয়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধনের হার বাড়াতে বেশ কিছু জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-মোট হজ কোটার অন্তত ২৫ শতাংশ হজযাত্রী যেন সরকারি মাধ্যমে নিবন্ধন করেন, তা নিশ্চিত করা,  জেলা ও উপজেলার মাসিক সমন্বয় সভায় ‘সরকারি মাধ্যমে হজ’ বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও উপপরিচালকরা সমন্বয় সভায় উপস্থিত থেকে সরকারি মাধ্যমে হজযাত্রী বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং হালনাগাদ তথ্য প্রদান করবেন।

এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন অগ্রগতি মূল্যায়নে নিয়মিত পর্যালোচনা সভা আয়োজন করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কর্মশালায় আরও জানানো হয়, বিশ্বে সর্বোচ্চ হজযাত্রী প্রেরণকারী দেশগুলোর তালিকায় ৪র্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী বাংলাদেশের হজযাত্রী কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান ও উপস্থাপনা সূত্রে এ চিত্র উঠে এসেছে।

হজ ২০২৬-এর বাস্তবায়ন চিত্র ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের অন্যতম বিধান পবিত্র হজ পালন একটি দ্বি-রাষ্ট্রীয় সংবেদনশীল কার্যক্রম। বাংলাদেশ অংশে এ ব্যবস্থাপনা পরিচালন করে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

২০২৬ সালের হজে বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট ৭৮ হাজার ৩৯০ জন হজ পালন করেন। তবে নির্ধারিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

সৌদি সরকার ও হজযাত্রী প্রেরণকারী দেশের যৌথ ব্যবস্থাপনায় হজ পরিচালিত হলেও দেশে সরকারি হজ ব্যবস্থাপনার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি ও নিবন্ধন বাড়ানোর জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

কর্মশালায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ের উপ-পরিচালক, সুপারভাইজার, মডেল কেয়ারটেকার, মাস্টার ট্রেইনার, শিক্ষকসহ বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ,  সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন