মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

টাকা নিছি, পারলে কিছু কইরেন বলা আনসার সদস্যের সম্পর্কে যা জানা গেল

সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে “টাকা নিছি, পারলে কিছু কইরেন”, ঘুষের কথা স্বীকার করেই প্রকাশ্যে হুংকার আনসার কমান্ডারের! শিরোনামে অভিযোগসংবলিত একটি ভিডিও প্রচারিত হয়। বিষয়টি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নজরে আসার পর তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে এ তথ্য এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয় ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের দৌলতপুর থানাধীন ২ নম্বর ওয়ার্ডের রেলগেট নগরঘাট গ্রামের বাসিন্দা মোঃ জামাল হোসেন কোনো আনসার কমান্ডার নন। তিনি কোনো ইউনিয়ন কমান্ডার, দলনেতা কিংবা বাহিনীর ভাতাভোগী সদস্যও নন। তিনি একজন স্বেচ্ছাসেবী ভিডিপি সদস্য মাত্র। তবে অনুসন্ধানকালে তার নামে ভিডিপির মূল সনদপত্রও পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে আরও প্রতীয়মান হয়েছে, মোঃ জামাল হোসেন নিজেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে আনসার কমান্ডার হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর। এছাড়া আনসার কমান্ডার বা আনসার বাহিনীর পোশাক পরিধান করে নিজেকে বাহিনীর সদস্য হিসেবে উপস্থাপনের প্রাথমিক তথ্যও পাওয়া গেছে।

স্থানীয় পর্যায়ে নিজের প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময়ে পূজা ও নির্বাচনকালীন ডিউটিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করার তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বর্তমানে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ ও অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর AVMIS সফটওয়্যারে তার স্বেচ্ছাসেবী সদস্যপদ বাতিল করে তাকে বাহিনী থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশে প্রায় ৬০ লাখ ভিডিপি সদস্য রয়েছেন। তারা স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হন। তারা স্থায়ী বা নিয়মিত ভাতাভোগী সদস্য নন। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সংকট, দুর্যোগ, নির্বাচন ও জননিরাপত্তামূলক কার্যক্রমে তারা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কোনো সদস্য অনৈতিক, শৃঙ্খলাবহির্ভূত বা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী তার সদস্যপদ বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দুর্নীতি, ঘুষ, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। সকল সদস্যকে এ ধরণের কর্মকাণ্ড থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে কেউ এ ধরণের কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন