মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

মোবাইল নেটওয়ার্কে ফিরেই জাতীয় জরুরি সেবায় ফোন, নৌবাহিনীর অভিযানে উদ্ধার বিকল নৌযানসহ ১৬ জেলে

মাছ ধরতে গিয়ে ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় তিন দিন ধরে সাগর ও নদীর মোহনায় দিশাহীনভাবে ভাসছিলেন বাগেরহাটের ১৬ জেলে। দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কের বাইরে থাকার পর সংযোগ ফিরে পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে নৌবাহিনীর অভিযানে তাদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে বিকল নৌযানটিও।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ আগস্ট বঙ্গোপসাগরের পায়রা বন্দরের সন্নিকটবর্তী এলাকা থেকে লোকমান নামে এক ব্যক্তি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে উদ্ধারের আবেদন জানান।

তিনি জানান, বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা এলাকা থেকে ১৬ জন জেলে গত ১৯ আগস্ট একটি মাছ ধরার নৌযানে করে সাগরে যান। দুই দিন মাছ ধরার পর ২১ আগস্ট নৌযানটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর তারা দিশাহীনভাবে ভাসতে থাকেন।

ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পর নৌযানটি ভাসতে ভাসতে বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন পশুর নদীর দিকে চলে যায়। এ সময় মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় তারা কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে বা সাহায্য চাইতে পারেননি।

অবশেষে ২৩ আগস্ট রাতে মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আসার পর লোকমান জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে তাদের উদ্ধারের জন্য অনুরোধ জানান।

খবর পেয়ে ৯৯৯ কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে বাগেরহাট নৌ-পুলিশ, মংলা কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ কক্ষকে বিষয়টি জানায় এবং দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম গ্রহণের অনুরোধ করে।

৯৯৯-এর কলটি গ্রহণ করেন কলটেকার কনস্টেবল ফজলে রাব্বি মিয়া। উদ্ধার কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্ব পালন করেন ৯৯৯ পুলিশ ডিসপাচার এসআই মো. রবিউল ইসলাম।

৯৯৯ থেকে তথ্য পাওয়ার পর নৌবাহিনীর একটি উদ্ধারকারী জাহাজ অভিযান শুরু করে। তবে দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্কের কারণে কলারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় জেলেদের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে কিছুটা সময় লাগে।

পরে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর নৌবাহিনীর সদস্যরা বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন পশুর নদী এলাকা থেকে বিকল নৌযানসহ ১৬ জেলেকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন