বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সম্মতি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে। বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ১৭ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এর আগেই উভয় পক্ষ মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে সম্মতি জানিয়েছে। পাকিস্তান সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।

মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই পক্ষই যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে তাদের সম্মতির কথা পাকিস্তানকে জানিয়েছে। তবে কত দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে।

সূত্রটি জানায়, ‘উভয় পক্ষই মধ্যস্থতাকারীদের কাছে সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। তবে মেয়াদ কতদিন বাড়ানো হবে, তা নির্ধারণে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে।’

এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। পরে গত ১৭ জুন দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়।

তবে পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এর ফলে আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যপথ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও গ্যাসের আন্তর্জাতিক সরবরাহ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সেখানে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যেই গত ৮ থেকে ২৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একাধিক সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।

ওয়াশিংটন ইরানের ভেতরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। জবাবে তেহরান কয়েকটি আরব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা জানায়। ইরানের দাবি অনুযায়ী, এসব হামলার আওতায় জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ছিল।

সামরিক সংঘাতের মধ্যেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষের সম্মতি নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

তবে যুদ্ধবিরতি কতদিন বাড়বে এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলসহ গুরুত্বপূর্ণ বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এসব বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো গেলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত এড়ানোর পাশাপাশি স্থবির হয়ে থাকা কূটনৈতিক আলোচনাও পুনরায় এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন