রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা হবে: আইনমন্ত্রী

মজুতদারির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগের হুঁশিয়ারি

ঝিনাইদহ, ০৮ আগস্ট ২০২৬:
বাজারে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উল্লেখ করে এসব সিন্ডিকেট ভেঙে প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেছেন, বাজার সিন্ডিকেট ও অবৈধ মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মজুতদারির জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন তিনি।

শনিবার ঝিনাইদহের শৈলকূপায় পাট ও পেঁয়াজের পাইকারি হাট ও আড়ত পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

কৃষকের কাছ থেকে ‘তোলা’ নেওয়ার অভিযোগ

বাজার ব্যবস্থাপনায় কৃষকদের বিভিন্নভাবে অতিরিক্ত পরিমাণ পণ্য দিতে বাধ্য করার অভিযোগ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, কৃষকরা দীর্ঘ সময় ও শ্রম ব্যয় করে ফসল উৎপাদন করলেও বাজারে এসে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন। একপর্যায়ে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের উৎপাদিত পণ্যের অতিরিক্ত অংশ নেওয়া হয়।

তিনি জানান, শৈলকূপার হাটে পাট ও পেঁয়াজ বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতি মণে অতিরিক্ত পণ্য নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি বাজারের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও অন্যান্য ব্যক্তির কাছ থেকেও কৃষকদের কাছ থেকে অর্থ বা পণ্য নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আইনমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অনিয়মের ফলে একজন কৃষক এক মণ পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে প্রকৃত ওজনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি পণ্য দিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা কৃষকের জন্য অন্যায্য।

সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

আইনমন্ত্রী বলেন, বাজারে প্রভাব বিস্তার করে কৃষকদের জিম্মি করার সুযোগ আর দেওয়া হবে না। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে ইতোমধ্যে দেশের হাট-বাজারগুলোতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো ব্যবসায়ী যদি নির্ধারিত নিয়ম না মেনে কৃষকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ‘তোলা’ দাবি করেন কিংবা তোলা না দিলে কৃষিপণ্য কিনবেন না বলে চাপ সৃষ্টি করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ধরনের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাজারে নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে হবে। যারা নিয়ম মানবেন না, তাদের জায়গায় বিকল্প ব্যবসায়ী তৈরি হবে।

মজুতদারদের সতর্কবার্তা

আইনমন্ত্রী বিশেষ ক্ষমতা আইনের কথা উল্লেখ করে বলেন, অবৈধভাবে পণ্য মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি বা মূল্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মজুতদারির জন্য ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হবেন, তাদের পরিণতি সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক থাকা উচিত।

মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ

শৈলকূপার পাট ও পেঁয়াজের পাইকারি বাজার পরিদর্শনের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থাপনা ও কৃষকের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত ‘তোলা’র বিষয়টি সরেজমিনে দেখেন আইনমন্ত্রী।

সরকারের পক্ষ থেকে বাজারে কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষা, মধ্যস্বত্বভোগীদের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যে ন্যায্য বাজারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় নজরদারি বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে।

বাজার পরিদর্শনের সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন