অনুসরণ করুন:
শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য সংকটঃ ইরান যুদ্ধ বন্ধের ইতিবাচক বার্তা পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ইতিবাচক বার্তা পাওয়ার কথা জানিয়েছে তেহরান। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। ফলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান এবং নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী করিম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তারা কিছু বার্তা পাচ্ছেন। এসব বার্তার উৎস বা বিস্তারিত বিষয়বস্তু প্রকাশ না করলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, বার্তাগুলো ইতিবাচক।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এগিয়ে নিতে হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আগে সমাধান করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার বিষয়টি নিষ্পত্তি এবং হরমুজ প্রণালিতে নতুন ব্যবস্থাপনা বা সীমারেখা নির্ধারণের বিষয় রয়েছে।

‘যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে বলে তিনি মনে করেন।

ট্রাম্প একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি চুক্তি কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলেও দাবি করেন।

তবে যুদ্ধের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের মজুত নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের মুখেও পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল-নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের একটি বড় অংশ ব্যবহৃত হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প স্বীকার করেন, কিছু নির্দিষ্ট ধরনের অস্ত্রের মজুত তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে শক্তিশালী অস্ত্রের বড় মজুত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্প নতুন উৎপাদন সক্ষমতা তৈরিতে কাজ করছে বলেও জানান ট্রাম্প। এর মধ্যে প্যাট্রিয়ট ও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য নতুন কারখানা স্থাপনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

হরমুজ প্রণালিতে ফের উত্তেজনা

যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।

ইরানের কেশম দ্বীপের আশপাশে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ‘শত্রুভাবাপন্ন লক্ষ্যবস্তু’র বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের অংশ হিসেবে এসব বিস্ফোরণ ঘটেছে।

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে তেহরানের পার্লামেন্টেও নতুন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত একটি আইনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ ইরানের শত্রু হিসেবে বিবেচিত দেশগুলোর নৌযান চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। নিয়ম অমান্য করলে জরিমানার ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

আস্থার সংকট কাটেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়েছে পারস্পরিক আস্থার সংকট।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করে বলেছেন, ওয়াশিংটন একদিকে সামরিক হুমকি দিচ্ছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছে।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইতিবাচক বার্তা এলেও তেহরান তা কতটা বিশ্বাস করছে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।

মোসাদের হয়ে কাজের অভিযোগে ২১ জন গ্রেপ্তার

এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিও উত্তপ্ত রয়েছে। দেশটির গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় কিরমান প্রদেশ থেকে ২১ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

ওমানের মধ্যস্থতায় সমঝোতার চেষ্টা

এমন পরিস্থিতিতে ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে একটি সাময়িক সমঝোতার খসড়া চূড়ান্ত করার দিকে এগোচ্ছে বলে জানা গেছে।

দক্ষিণ ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকার মধ্যেই হরমুজ প্রণালির বাণিজ্যিক নৌপথ সচল রাখা নিয়ে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা এবং হরমুজ প্রণালিতে একটি কার্যকর সমঝোতা—দুটিই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরের কেন্দ্রে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন