অনুসরণ করুন:
শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬

থাইল্যান্ডের স্কুলে বন্দুক হামলা: নিহত ৪, আতঙ্কে আহত অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উত্তরে ননথাবুরি প্রদেশের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন শিক্ষক ও দুইজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এছাড়া হামলার সময় আতঙ্কে ছুটোছুটি করতে গিয়ে অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দেশটির উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পোলাপি সুয়ানচুই স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম থাই পিবিএসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপিও একই তথ্য জানিয়েছে।

উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আহত শিক্ষার্থীদের কেউ গুলিবিদ্ধ হয়নি। বন্দুক হামলার পর নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি ও দৌড়াদৌড়ির সময় তারা আহত হয়।

হামলাকারী ছিল একই স্কুলের শিক্ষার্থী

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ওই বিদ্যালয়েরই এক কিশোর শিক্ষার্থী। ঘটনাটির পর তারও মৃত্যু হয়েছে। তবে সে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে নাকি নিজেই নিজের জীবন নিয়েছে—এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রধানমন্ত্রী: এমন ঘটনা কখনোই হওয়া উচিত নয়

ঘটনার পর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক একটি ঘটনা এবং এমন সহিংসতা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

অস্ত্রের উৎস তদন্তে কর্তৃপক্ষ

উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, হামলাকারী একটি হ্যান্ডগান ব্যবহার করেছিল। কীভাবে একজন শিক্ষার্থীর হাতে এই আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছালো, তা খতিয়ে দেখছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে সন্দেহভাজন হামলাকারীকে স্কুলের বেগুনি রঙের ইউনিফর্ম ও কাঁধে একটি কালো ব্যাগসহ দেখা যায়। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসাও উদ্ধার করা হয়েছে।

আতঙ্কে স্কুলে ছুটে যান অভিভাবকেরা

হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ননথাবুরির দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলের আশপাশের এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। সন্তানদের নিরাপদে নিয়ে যেতে বিপুলসংখ্যক অভিভাবক স্কুলে ছুটে আসেন।

আগেও ঘটেছে একাধিক ভয়াবহ হামলা

থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানার হার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বেশি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় এক কোটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বন্দুক হামলার ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্কুলেও এক কিশোর গুলি চালায়। ওই ঘটনায় প্রধান শিক্ষক নিহত এবং দুই শিক্ষার্থী আহত হন। পরে জানা যায়, হামলাকারী এক পুলিশ কর্মকর্তার অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে হামলা চালিয়েছিল। তার মানসিক চিকিৎসার ইতিহাসও ছিল বলে সে সময় পুলিশ জানিয়েছিল।

এর আগে ২০২২ সালে থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের একটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বন্দুক ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। সেই ঘটনায় ২৪ শিশুসহ ৩৬ জন নিহত হন, যা দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।

বর্তমান হামলার উদ্দেশ্য, হামলাকারীর মানসিক অবস্থা এবং অস্ত্র সংগ্রহের উৎস নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার পর স্কুল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে থাই কর্তৃপক্ষ।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন