অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ইউরোপে যাত্রী প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষে ইস্তাম্বুল সাবিহা গোকচেন বিমানবন্দর

এএসিআই ইউরোপের প্রতিবেদনে শীর্ষস্থান; মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতেও ইউরোপীয় বিমান চলাচলে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপের বৃহৎ বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধির হারে শীর্ষ অবস্থান অর্জন করেছে তুরস্কের ইস্তাম্বুল সাবিহা গোকচেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ইউরোপীয় বিমানবন্দর সংস্থা এয়ারপোর্টস কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনাল (ACI Europe) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরে চার কোটির বেশি যাত্রী পরিবহনকারী বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে সাবিহা গোকচেনে যাত্রী প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ, যা একই শ্রেণির অন্যান্য ইউরোপীয় বিমানবন্দরের তুলনায় সর্বোচ্চ।

২ কোটি ৩৬ লাখ যাত্রীর মাইলফলক

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়কালে বিমানবন্দরটি ২ কোটি ৩৬ লাখ যাত্রীকে সেবা দিয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

যাত্রী প্রবৃদ্ধির দিক থেকে ইস্তাম্বুলের এই বিমানবন্দরটি বার্সেলোনা, মাদ্রিদ ও রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরকে পেছনে ফেলেছে। সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরগুলোর প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

ইউরোপজুড়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ইউরোপের বিমানবন্দরগুলোতে সামগ্রিক যাত্রী প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ, যা দ্বিতীয় প্রান্তিকে নেমে আসে ১ দশমিক ৩ শতাংশে।

এএসিআই ইউরোপের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং কিছু রুটে এয়ারলাইন্সগুলোর সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার কারণে প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়েছে।

ইউরোপের গড়ের চেয়ে এগিয়ে তুরস্ক

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে তুরস্কের বিমানবন্দরগুলোতে মোট যাত্রী প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ, যা ইউরোপের গড় প্রবৃদ্ধির চেয়ে কিছুটা বেশি।

এএসিআই ইউরোপের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও তুরস্ক ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী বিমান পরিবহন বাজার হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে।

ব্যস্ততম বিমানবন্দরের তালিকায়

ইউরোপের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দরের তালিকায় লন্ডন হিথ্রো প্রথম স্থান ধরে রেখেছে। বছরের প্রথম ছয় মাসে সেখানে প্রায় ৪ কোটি যাত্রী যাতায়াত করেছেন।

এর পরেই রয়েছে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর, যেখানে একই সময়ে প্রায় ৩ কোটি ৯৮ লাখ ৪০ হাজার যাত্রী ভ্রমণ করেছেন।

ভূরাজনীতির প্রভাব বাড়ছে

এএসিআই ইউরোপের মহাপরিচালক অলিভিয়ের জানকোভেক বলেন, ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বিমান চলাচল খাতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে। তবুও মানুষের বিমান ভ্রমণের আগ্রহ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও ইউরোপে আকাশপথে ভ্রমণের চাহিদা স্থিতিশীল রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর আমেরিকা থেকে ইউরোপে ভ্রমণকারীর সংখ্যাও গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ ভ্রমণে বেশি প্রবৃদ্ধি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ইউরোপে অভ্যন্তরীণ বিমান ভ্রমণ বেড়েছে ৩ শতাংশ, যেখানে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন বেড়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

কোভিড-১৯ মহামারির পর প্রথমবারের মতো ইউরোপে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের তুলনায় অভ্যন্তরীণ বিমানযাত্রার প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন