অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন ঠেকাতে নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান দুই ইসরায়েলি মন্ত্রীর

শান্তি পরিকল্পা নিয়ে নতুন বিতর্ক; বিরোধীদলীয় নেতার প্রশ্ন—‘ভুল তথ্য’ দিল কে?

গাজা উপত্যকায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (International Stabilisation Force-ISF) মোতায়েনের সিদ্ধান্ত ঘিরে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং সেটেলমেন্টবিষয়ক মন্ত্রী ওরিত স্ট্রক প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কাছে এ বাহিনীর মোতায়েন স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে দুই মন্ত্রী যুদ্ধ মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক আহ্বান এবং গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনীর প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার দাবি জানান।

‘ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত’

চিঠিতে তারা দাবি করেন, গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নাকি ভুল তথ্যের ভিত্তিতে গৃহীত হয়েছে। তাদের মতে, গাজার জন্য প্রস্তাবিত শান্তি রোডম্যাপ ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ ও গাজাকে সামরিকীকরণমুক্ত করার লক্ষ্যকে দুর্বল করতে পারে।

তবে তারা কোন তথ্যকে ভুল বলছেন বা কার কাছ থেকে সেই তথ্য এসেছে—তা স্পষ্ট করেননি।

যুদ্ধ মন্ত্রিসভার আগের অনুমোদন

গত সপ্তাহে ইসরায়েলের যুদ্ধ মন্ত্রিসভা গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের নীতিগত অনুমোদন দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গাজার নিরাপত্তা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং অন্তর্বর্তীকালীন শাসনব্যবস্থায় সহায়তা করার জন্য এই বাহিনী কাজ করবে।

আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীটি গাজা-সংক্রান্ত বহুপক্ষীয় শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গঠিত চারটি প্রধান কাঠামোর একটি। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত শান্তি পরিকল্পনার খসড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক পুনর্গঠন, অন্তর্বর্তীকালীন শাসন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতার প্রশ্ন

ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ দুই মন্ত্রীর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি সিদ্ধান্তটি সত্যিই ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই তথ্য কে বা কারা মন্ত্রিসভাকে দিয়েছিল—সেটি জনগণের সামনে স্পষ্ট করা উচিত।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এমন গুরুতর অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম প্রকাশ না করা দায়িত্বশীল আচরণ নয়।

গাজা পরিস্থিতি

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।

এছাড়া যুদ্ধের কারণে গাজার অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা জানিয়েছে।

যদিও ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তবুও গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দাবি, এরপরও বিভিন্ন হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। ইসরায়েল এসব ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে।

নতুন অনিশ্চয়তা

গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের প্রশ্নে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার ভেতরেই মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসায় যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার প্রশাসনিক কাঠামো এবং শান্তি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন