সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬

শ্রীলঙ্কার ইস্টার হামলা: সাবেক পুলিশপ্রধান ও প্রতিরক্ষা সচিবের মৃত্যুদণ্ড

কলম্বো, ২ আগস্ট: ২০১৯ সালের ভয়াবহ ইস্টার সানডে বোমা হামলা ঠেকাতে দায়িত্বে অবহেলার দায়ে শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশপ্রধান পুজিথ জয়াসুন্দারা এবং সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব হেমাসিরি ফার্নান্দোকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি বিশেষ উচ্চ আদালত।

তিন সদস্যের হাইকোর্ট বেঞ্চের সংখ্যাগরিষ্ঠ (২-১) রায়ে শুক্রবার এ দণ্ড দেওয়া হয়। এর আগে ২০২২ সালে নিম্ন আদালতে তারা খালাস পেলেও রাষ্ট্রপক্ষ সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য বিশেষ দ্রুত বিচার আদালতে আসে।

২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কার তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে ধারাবাহিক আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ২৭৯ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৪৫ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। এছাড়া আহত হন পাঁচ শতাধিক মানুষ।

তদন্তে উঠে আসে, হামলার আগে সম্ভাব্য আত্মঘাতী হামলার বিষয়ে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে সতর্কবার্তা পেয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি। এ ঘটনায় গঠিত সংসদীয় তদন্ত কমিটিও পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বে গুরুতর অবহেলার কথা উল্লেখ করে।

দণ্ডপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তার আইনজীবী জানিয়েছেন, তারা রায়ের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করবেন। তার দাবি, রায়ে ভিন্নমত দেওয়া বিচারকও উল্লেখ করেছেন যে অভিযুক্তদের হামলার কোনো উদ্দেশ্য বা হামলাকারীদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এর আগে পৃথক একটি দেওয়ানি মামলায় হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দুই কর্মকর্তাকে মোট ১২ কোটি ৫০ লাখ শ্রীলঙ্কান রুপি পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

ইস্টার হামলার দায় আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস-অনুপ্রাণিত দুটি স্থানীয় উগ্রপন্থী সংগঠনের সদস্যদের ওপর বর্তায়। হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া সবাই নিহত হলেও, তাদের সহযোগী ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এখনও পৃথক বিচার কার্যক্রম চলছে।

তবে শ্রীলঙ্কার ক্যাথলিক চার্চের দাবি, এখন পর্যন্ত যাদের দায়ী করা হয়েছে তারা মূল পরিকল্পনাকারী নন; হামলার পেছনে আরও বড় কোনো ষড়যন্ত্র ছিল।

উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার আদালতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও ১৯৭৬ সাল থেকে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত রয়েছে। ফলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অধিকাংশ আসামির সাজা পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়। বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের স্থগিতাদেশ বহাল রাখার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন