অনুসরণ করুন:
রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬

জনগণের প্রত্যাশা পূরণে গঠনমূলক সংসদীয় চর্চার আহ্বান ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে জাতীয় সংসদকে কার্যকর বিতর্ক, যুক্তিনির্ভর আলোচনা এবং গঠনমূলক সমালোচনার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাঁর মতে, সংসদের প্রতিটি কার্যক্রমের দিকে সাধারণ মানুষের গভীর নজর রয়েছে এবং জনগণ চান নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক অবদান রাখুন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদের ওপর দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশা রয়েছে। সংসদ সদস্যদের যুক্তিপূর্ণ আলোচনা, মতবিনিময় এবং গঠনমূলক সমালোচনার মধ্য দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত, যা জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায়।

ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, স্পিকার বা সভাপতিমণ্ডলীর দায়িত্ব হলো সংসদ পরিচালনায় সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। দায়িত্ব পালনকালে তিনি এই দুটি নীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাম্য, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্য ছিল, তা বাস্তবায়নে সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কায়সার কামালের ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, নির্বাহী কার্যক্রম এবং বিচারিক পর্যালোচনার মধ্যে জাতীয় সংসদ একটি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান। তাই রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক চর্চার প্রধান ক্ষেত্র হিসেবেই সংসদকে প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সংসদে সরকার যেমন নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে, তেমনি বিরোধী দলও গঠনমূলক সমালোচনার পূর্ণ সুযোগ পাবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতভিন্নতা ও বিতর্ক রাষ্ট্র পরিচালনাকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করে তোলে। বিশ্বের বিভিন্ন সংসদীয় গণতন্ত্রেও আলোচনা ও বিতর্কের ভিত্তিতেই গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণ হয়ে থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকারে বর্তমান সংসদকে তিনি একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, বর্তমান সংসদের অধিকাংশ সদস্য অতীতে নানা ধরনের রাজনৈতিক নির্যাতন, কারাবরণ, গুম, নির্বাসন কিংবা অন্যান্য প্রতিকূল অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এসেছেন। এ কারণে এই সংসদের চরিত্র অন্যান্য সময়ের তুলনায় ভিন্ন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ সময় তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়েও নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ের শাসনব্যবস্থা, গণতন্ত্রের অগ্রগতি ও পশ্চাৎপদতা, সামরিক শাসন, নির্বাচন এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে নিজের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। পাশাপাশি ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে তিনি অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এর মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক যাত্রার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত স্পিকার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জাতীয় সংসদ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর পাশাপাশি দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে ভূমিকা রাখবে। তাঁর মতে, দায়িত্বশীল সংসদীয় চর্চার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন