শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬

গাবতলী থেকে পুরান ঢাকা হয়ে নারায়ণগঞ্জে মেট্রোরেল, এমআরটি লাইন-২-এর রুট চূড়ান্ত

রাজধানীর গাবতলী থেকে পুরান ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো অতিক্রম করে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-২’ নামে নতুন এ প্রকল্পে পাতাল ও উড়াল—দুই ধরনের মেট্রোরেল চলবে। একই সঙ্গে গুলিস্তান থেকে নয়াবাজার হয়ে সদরঘাট পর্যন্ত একটি শাখা লাইন নির্মাণের প্রস্তাবও রয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। প্রকল্পে ঋণ সহায়তা দিতে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রকল্পের ব্যয়ের বড় অংশ ঋণের মাধ্যমে অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং এমআরটি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে প্রকল্পের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০৩০ সালের মধ্যে এ রুটে মেট্রোরেল চলাচল শুরু হতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এবং এতে ২৪টি স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত রুটটি গাবতলী থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও পুরান ঢাকা অতিক্রম করে নারায়ণগঞ্জের দিকে যাবে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত রুটে নারায়ণগঞ্জকে অন্তর্ভুক্ত করে গত মে মাসে প্রকল্পের প্রাক-প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাব (পিডিপিপি) প্রণয়ন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিক পরিকল্পনায় গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জের তারাবো পর্যন্ত মেট্রোরেল পরিচালনার কথা রয়েছে। এ রুটের সম্ভাব্য স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা উদ্যান, বছিলা মোড়, মোহাম্মদপুর বিআরটিসি, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, জিগাতলা, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, কাপ্তানবাজার ও ডেমরা।

এ ছাড়া গুলিস্তান থেকে নয়াবাজার হয়ে সদরঘাট পর্যন্ত একটি শাখা লাইন নির্মাণের প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। ভবিষ্যতে এ মেট্রোরেল লাইন নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এআইআইবির সঙ্গেও ঋণ সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পের পিডিপিপি পর্যালোচনা করছে। কমিশনের মতামত পাওয়ার পর বৈদেশিক অর্থায়নের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে প্রস্তাবটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানো হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান কবির আহমেদ বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো পিডিপিপি তারা পেয়েছেন এবং প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বৈদেশিক অর্থায়নের নিশ্চয়তা পেতে এটি পরবর্তী সময়ে ইআরডিতে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-২ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবহন প্রকল্প। কারণ, এ রুটটি রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র পুরান ঢাকাকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনবে।

ইআরডির বিশ্বব্যাংক উইংয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পে ঋণ সহায়তা দিতে বিশ্বব্যাংকের নীতিগত সম্মতি রয়েছে। প্রকল্পটি নিয়ে এর আগে কয়েক দফা আলোচনা হলেও তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বর্তমান সরকার মেট্রোরেলের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) মেট্রোরেল খাতে বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে।

যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে এমআরটি লাইন-২-এর সঙ্গে রাজধানীর অন্যান্য মেট্রোরেল লাইনের সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। গাবতলী অংশে এটি এমআরটি-৫-এর উত্তর ও দক্ষিণ অংশের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। এ ছাড়া কমলাপুর এলাকায় এমআরটি-১, এমআরটি-৪ ও এমআরটি-৬ এবং সাইনবোর্ড স্টেশনে এমআরটি-৪-এর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গাবতলী, মোহাম্মদপুর, নিউমার্কেট, আজিমপুর ও পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের দ্রুত ও আধুনিক গণপরিবহন সংযোগ স্থাপিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন