সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

ই-মেইলে হুমকির পর কূটনৈতিক পাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার

হুমকির উৎস অনুসন্ধানে সিটিটিসি, বাড়ানো হয়েছে চেকপোস্ট-টহল

রাজধানীর কয়েকটি বিদেশি দূতাবাস ও সরকারি দপ্তরে ই-মেইলের মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসার পর ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গুলশান ও বারিধারাসহ দূতাবাসকেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে চেকপোস্ট, টহল ও নজরদারি। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে হুমকিমূলক ই-মেইলগুলোর উৎস, উদ্দেশ্য এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, তা অনুসন্ধান করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। রোববার (২৩ আগস্ট) ডিএমপি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশের ঢাকাস্থ দূতাবাসে হুমকিমূলক ই-মেইল পাঠানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। কয়েকটি বার্তায় অর্থ দাবি করার পাশাপাশি আতঙ্ক তৈরির উদ্দেশ্যে উগ্রবাদী সংগঠনের নাম ব্যবহার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

হুমকির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করে নিরাপত্তা সহায়তা চায়। এরপর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। দূতাবাসগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিটিটিসির কর্মকর্তাদের বৈঠকও হয়েছে বলে জানা গেছে।

কূটনৈতিক এলাকায় বাড়তি চেকপোস্ট ও টহল

হুমকির ঘটনার পর কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গুলশান ও বারিধারার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, প্রবেশপথ এবং দূতাবাসের আশপাশে পুলিশের উপস্থিতি ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বনানী ও উত্তরার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও যানবাহন ও সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

ডিএমপি সূত্র জানায়, শুধু কূটনৈতিক এলাকা নয়, রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও কৌশলগত স্থানে বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশিও করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা কার্যক্রমে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি ডিএমপির বিশেষায়িত ইউনিটগুলোও মাঠে রয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সিটিটিসির সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও চালানো হচ্ছে।

ডিএমপি সূত্রের দাবি, রাজধানীর নিরাপত্তা কার্যক্রমে ১৮ হাজারের বেশি কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্য মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্ভাব্য নাশকতা, সহিংসতা বা অন্য কোনো অপতৎপরতার আগাম তথ্য সংগ্রহেও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা ইউনিটগুলো কাজ করছে।

প্রস্তুত ১৫ কুইক রেসপন্স টিম

যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে রাজধানীর বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি সূত্র। কোনো স্থানে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এসব দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নেবে।

ডিএমপির কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আবু খায়ের জানিয়েছেন, হুমকি ও অর্থ দাবির ঘটনার পর কূটনৈতিক এলাকায় আগের তুলনায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সড়কে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানোর পাশাপাশি টহল ও দূতাবাসগুলোর সামনে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুইক রেসপন্স টিমও প্রস্তুত রয়েছে।

আবু খায়েরের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলশান, বারিধারা, বনানী ও উত্তরার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চলাচলকারী যানবাহন ও সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক মনে হলে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

হুমকির উৎস খুঁজছে তদন্তকারীরা

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে হুমকিমূলক ই-মেইলগুলো আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, কূটনৈতিক এলাকার প্রবেশপথে চেকপোস্ট ও টহল বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সাদা পোশাকে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সদস্যদের সতর্ক রাখা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা হুমকিমূলক ই-মেইলের উৎস শনাক্তের পাশাপাশি প্রেরকদের পরিচয় এবং তাদের উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে হুমকির সঙ্গে বাস্তব কোনো নিরাপত্তাঝুঁকির যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে বিদেশি মিশনগুলোর নিরাপত্তার গুরুত্ব বিবেচনায় কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে। হুমকির বিষয়টি সামনে আসার পর থেকে সিটিটিসিসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো তদন্ত ও নিরাপত্তা কার্যক্রম সমন্বিতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন